Author Topic: নারী অধিকার ও লংঘন সংক্রান্ত আইন  (Read 14579 times)

bbasujon

  • Administrator
  • VIP Member
  • *****
  • Posts: 1827
  • I want to show my performance at any where
    • View Profile
    • Higher Education
বিবাহ ও ভরণপোষণ সংক্রান্ত[/color]

বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ১ঌ২ঌ

[ ১ঌ২ঌ সনের ১ঌ নং আইন]

বাল্য বিবাহ অনুষ্ঠান নিবারণ করিবার জন্য আইন: যেহেতু বাল্যবিবাহ অনুষ্ঠান প্রতিরোধ করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয় ;সেহেতু এই আইন  প্রনয়ন করা হল :


ধারা

১। সংক্ষিপ্ত শিরোনাম, এলাকা ও প্রয়োগ :

(ক) এই আইনকে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ১৯২৯ নামে অভিহিত করা হবে।

(খ) সমগ্র বাংলাদেশ এর আওতাভুক্ত এবং বাংলাদেশের সকল নাগরিকের উপরই, তাহারা যেখানেই থাকুক না কেন, ইহা প্রযোজ্য হবে।

(গ) ১৯৩০ সনের এপ্রিলের প্রথম দিন হতে এই আইন বলবত্‍ হবে।
 

ধারা

২। সংজ্ঞা :

বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কিছু না থাকলে, এই আইনে -

    (ক) শিশু বলতে ঐ ব্যক্তিকে বুঝায়, যার বয়স পুরুষ হলে একুশ বত্রের নিচে এবং নারী হইলে আঠার বত্সরের নিচে।
    (খ) বাল্যবিবাহ বলতে ঐ বিবাহকে বুঝায় যার চুক্তিবদ্ধ পক্ষগণের যেকোন একপক্ষ শিশু ;

    (গ) বিবাহের চুক্তি পক্ষ বলতে পক্ষগণের যেকোন এক পক্ষকে বুঝায় যার বিবাহ তদ্দরা অনুষ্ঠিত হয়েছে বা হওয়ার জন্য প্রস্তুত ;

    (ঘ) নাবালক বলতে ঐ ব্যক্তিকে বুঝায় যার বয়স পুরুষ হলে একুশ বত্সরের নিচে এবং নারী হলে আঠার বত্সরের নিচে ;

    (ঙ) মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন বলতে ১ঌ৮২ সনের চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অধ্যাদেশ (১ঌ৮২ সনের ৩৫ নং আইন) বা ১ঌ৮৩ সনে ঢাকা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন অধ্যাদেশ (১ঌ৮৩ সনের ৪০নং আইন) বা ১ঌ৮৪ সনের খুলনা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন অধ্যাদেশের অধীন গঠিত কর্পোরেশনকে বুঝায় যার এখতিয়ারের মধ্যে কোন বাল্য বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়েছে বা হওয়ার জন্য প্রস্তুত

    (চ) পৌরসভা বলতে ১ঌ৭৭ সনের পৌরসভা অধ্যাদেশের (১ঌ৭৭ সনের ২৬ নং আইন) অধীনে গঠিত পৌরসভাবে বুঝায় যার এখতিয়ারের মধ্যে কোন বাল্যবিবাহ অনুষ্ঠিত হয়েছে বা হওয়ার জন্য প্রস্তুত ; এবং

    (ছ) ইউনিয়ন পরিষদ বলতে ১ঌ৮৩ সনের স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) অধ্যাদেশের (১ঌ৮৩ সনের ৫১ নং আইন) অধীনে গঠিত ইউনিয়ন পরিষদকে বুঝায় যার এখতিয়ারের মধ্যে কোন বাল্য বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়েছে বা হওয়ার জন্য প্রস্তুত।

ধারা

৩। শিশু বিবাহকারী একুশ বত্সর বয়সের নিচে পুরুষ লোকের শাস্তি বালিত করা হয়েছে।

...

ধারা

৪। শিশু বিবাহকারীর শাস্তি:
যে কেউ একুশ বত্‍সর বয়সোর্ধ্ব পুরুষ বা আঠারো বয়সোর্ধ্ব মহিলা হয়ে কোন বাল্যবিবাহের চুক্তি করলে, একমাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাবাসে বা এক হাজার টাকা পর্যন্ত বর্ধনযোগ্য জরিমানায় বা উভয়বিধ শাস্তিযোগ্য হবে।

ধারা

৫। বাল্যবিবাহ সম্পন্নকারীর শাস্তি :
যে কেউ যেকোন বাল্যবিবাহ অনুষ্ঠান, পরিচালনা বা নির্দেশ করলে তিনি এক মাস পর্যন্ত  বিনাশ্রম কারাবাসে, এক হাজার টাকা পর্যন্ত বর্ধনযোগ্য জরিমানায় বা উভয়বিধ দন্ডে শাস্তিযোগ্য হবেন, যদি না তিনি প্রমাণ করেন যে, তার বিশ্বাস করার কারণ ছিল যে, উক্ত বিবাহ কোন বাল্যবিবাহ ছিল না।


ধারা

৬। বাল্যবিবাহ সংশ্লিষ্ট পিতা-মাতার বা অভিভাবকদের জন্য শাস্তি :
যেক্ষেত্রে কোন নাবালক কোন বাল্যবিবাহের চুক্তি করে, সেক্ষেত্রে ঐ নাবালকের ভারপ্রাপ্ত যেকোন ব্যক্তি, পিতা-মাতা হইক বা অভিভাবক হইক বা অন্য কোন সামর্থ্যে হউক, আইনসম্মত হউক বা বেআইনী হউক যদি উক্ত বিবাহে উত্সাহ প্রদানের কোন কাজ করেন, অথবা উহা অনুষ্ঠিত হওয়া হতে নিবারণ করতে অবহেলার দরুন ব্যর্থ হন, তিনি এক মাস পর্যন্ত বর্ধনযোগ্য বিনাশ্রম কারাবাসে বা একহাজার টাকা পর্যন্ত বর্ধনযোগ্য জরিমানায় বা উভয়বিধ দন্ডে শাস্তিযোগ্য হবেন :

তবে শর্ত থাকে যে, কোন মহিলাই কারাবাসে শাস্তিযোগ্য হবে না।

এই ধারার উদ্দেশ্যে যদি না এবং যতক্ষণ না বিপরীত কিছূ প্রমাণিত হয়, এই অনুমান করতে হবে যে, যেক্ষেত্রে কোন নাবালকের বাল্যবিবাহের চুক্তি করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে উক্ত নাবালকের ভারপ্রাপ্ত ব্যক্তি ঐ বিবাহ অনুষ্ঠিত হওয়া হতে নিবারণ করতে অবহেলার দরুণ ব্যর্থ হয়েছেন।

ধারা

৭। ৩ ধারা অধীনে অপরাধের জন্য কারাবাস প্রদান করা হবে না :
১৮ঌ৭ সনের সাধারণ দফা আইনের ২৫ ধারায় অথবা দন্ডবিধির ৪ ধারায় অন্তর্ভূক্ত যেকোন কিছু থাকা সত্ত্বেও ৩ ধারার অধীনে কোন অপরাধীকে দন্ডদানকারী আদালত (এই মর্মে) নির্দেশ দান করবে না যে, আরোপিত জরিমানা অনাদায়ে তাকে যেকোন মেয়াদের কারাবাস ভোগ করতে হবে।

 

ধারা

৮। এই আইনের অধীনে এখতিয়ার :
১৮ঌ৮ সনের ফৌজদারী কার্যবিধি কোডের ১ঌ০ ধারায় অন্তভুক্ত যে কোন কিছু থাকা সত্ত্বেও, প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেটের আদালত ব্যতীত কোন আদালতই এই আইনের অধীন কোন অপরাধের অধিগ্রহণ বা বিচার করবে না।

ধারা

৯। অপরাধের বিচারার্থে অধিগ্রহণ করিবার পদ্ধতি :
কোন আদালতই ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা বা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন কর্তৃক অথবা যদি উক্ত এলাকায় কোন ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা বা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন না থাকে, তা হলে সরকার এতদপক্ষে নির্ধারণ করতে পারেন এমন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আনীত অভিযোগের ভিত্তি ব্যতীত এই আইনের কোন অপরাধের বিচারার্থে অধিগ্রহণ করবেন না, এবং ঐরূপ অধিগ্রহণ কোন ক্ষেত্রেই যে তারিখে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে বলা হয়, সেই তারিখ হতে এক বত্সর অতিবাহিত হওয়ার পর করা হবে না।

ধারা

১০। এই আইনের অধীন অপরাধের প্রারম্ভিক অনুসন্ধান :
এই আইনের অধীন কোন অপরাধের বিচারার্থে অধিগ্রহণকারী আদালত ১ঌঌ৮ সনের ফৌজদারী কার্যবিধি কোডের ২০৩ ধারা মোতাবেক সংশ্লিষ্ট অভিযোগ খারিজ না করলে, হয় ঐ কোডের ২০২ ধারা মোতাবেক স্বয়ং অনুসন্ধান করবে, অথবা উহার অধঃস্তন কোন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেটকে ঐরূপ অনুসন্ধান করতে নির্দেশ দিবে।

ধারা

১১। অভিযোগকারীর নিকট হইতে জামানত গ্রহণের ক্ষমতা বাতিল করা হয়েছে।

...

ধারা

১২। এই আইন অমান্য করিয়া নিষেধাজ্ঞা জারির ক্ষমতা :
(১) এই আইনে অন্তর্গত বিপরীত কোন কিছু থাকা সত্ত্বেও আদালত এই আইন লংঘনক্রমে বাল্য বিবাহ ব্যবস্থিত হয়েছে বা অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য প্রস্তুত, এই মর্মে কোন অভিযোগের মাধ্যমে বা অন্যভাবে উহার নিকট উপস্থাপিত তথ্য হতে সন্তুষ্ট করে ঐরূপ বিবাহ নিষিদ্ধ করে এই আইনের ২, ৪, ৫ ও ৬ ধারায় উল্লিখিত যেকোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে।

(২) উপধারা (১) মোতাবেক কোন নিষেধাজ্ঞাই কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে জারি করা যাবে না, যদি না আদালত ঐরূপ ব্যক্তিকে পূর্বাহ্নে নোটিস প্রদান করে এবং তাহাকে নিষেধাজ্ঞা জারির বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর সুযোগ দেয়।

(৩) আদালত স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়েছে বা সংক্ষুব্ধ কোন ব্যক্তির আবেদনক্রমে (১) উপধারা মোতাবেক প্রদত্ত যেকোন আদেশ প্রত্যাহার করতে বা পরিবর্তন করতে পারে।

(৪) যেক্ষেত্রে এইরূপ আবেদনপত্র পাওয়া যায়, সেইক্ষেত্রে আদালত উহার সমক্ষে ব্যক্তিগতভাবে অথবা উকিল মারফত আবেদনকারীকে একটি আগ-শুনানির সুযোগ দিবেন এবং যদি আদালত আবেদনপত্র বা আংশিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেন, তা হলে এইরূপ করার কারণ লিপিবদ্ধ করে রাখবেন।

(৫) যে কেউ এই ধারার (১) উপধারা অনুসারে তার বিরুদ্ধে প্রদত্ত নিষেধাজ্ঞার কথা জানিয়েও সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে, তাহা হলে তাকে তিনমাস পর্যন্ত মেয়াদের কারাদন্ডে অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত বর্ধনযোগ্য জরিমানায় অথবা উভয়দন্ডে দন্ডিত করা যাবে।

    তবে শর্ত থাকে যে, কোন মহিলাকে কারাদন্ডে দন্ডিত করা যাবে না।
Acquire the knowledge and share the knowledge so that knowing,learning then sharing - all are the collection

bbasujon

  • Administrator
  • VIP Member
  • *****
  • Posts: 1827
  • I want to show my performance at any where
    • View Profile
    • Higher Education
মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরীয়ত)

প্রয়োগ আইন, ১৯৩৭

[১৯৩৭ সালের ২৬নং আইন]

------------------------------------------------------------------

 

বাংলাদেশের মুসলিমগণের বেলায় মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরীয়ত) প্রয়োগের বিধান করার জন্য আইন । যেহেতু বাংলাদেশের মুসলিমগণের বেলায় মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরীয়ত) প্রয়োগের বিধান করা যুক্তিযুক্ত; সেইহেতু এতদ্বারা ইহা নিম্নলিখিতরূপে বিধিবদ্ধ করা গেলঃ

 

ধারা-১ (সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রয়োগক্ষেত্র )

(১) অত্র আইনকে মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরীয়ত) প্রয়োগ আইন, ১৯৩৭ নামে অভিহিত করা যায় ।

(২) ইহার প্রয়োগক্ষেত্র সমগ্র বাংলাদেশ ।

 

ধারা-২ (মুসলিমগণের বেলায় ব্যক্তিগত আইনের প্রয়োগ )

বিপরীত কোনো প্রথা অথবা রীতি থাকা সত্ত্বেও উইলবিহীন উত্তরাধিকার, উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত বা চুক্তি অথবা দান অথবা ব্যক্তিগত আইনের অপর কোনো বিধান মোতাবেক অর্জিত ব্যক্তিগত সম্পত্তিসহ নারীগণের বিশেষ সম্পত্তি, বিবাহ, তালাক, ইলা, যিহার, লিয়ান, খুলা এবং মুবারাতসহ, বিবাহবিচ্ছেদ, ভরণপোষণ, দেনমোহর, অভিভাবকত্ব দান, অছি, অছি, সম্পত্তি এবং (দাতব্যালয় এবং দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবং দাতব্য ও ধর্মীয় সম্পত্তি ব্যতিত) ওয়াকফ সংক্রান্ত সমস্ত প্রশ্ন (কৃষি ভূমি সম্বন্ধীয় প্রশ্ন ব্যতিত) যে সকল মোকদ্দমায় পক্ষসমূহ মুসলিম সেই সকল মোকদ্দমার সিদ্ধান্ত-বিধি মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরীয়ত) হইবে ।

 

ধারা-৩ ( ঘোষণা দেওয়ার ক্ষমতা )

(১) যে ব্যক্তি নির্ধারিত কতৃর্পক্ষকে এই মর্র্মে সন্তুষ্ট করে যে-

(ক) সে একজন মুসলমান এবং (খ) সে ১৮৭২ সালের চুক্তি আইনের ১১ ধারা অনুযায়ী চুক্তি করার যোগ্য ও (গ) সে বাংলাদেশের একজন বসবাসকারী, তবে সে নির্ধারিত ফরমে নির্ধারিত কতৃর্পক্ষের নিকট দাখিলকৃত ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে এই মর্মে ঘোষণা করিতে পারে যে, সে এই ধারার বিধানসমূহের সুবিধালাভে ইচ্ছুক এবং তত্পর ২ ধারার বিধানসমূহ ঘোষণাকারী এবং তাহার সকল নাবালক সন্তান এবং তাহার বংশধরদের বেলায় প্রযোজ্য হইবে; যেন তথায় ক্রমোল্লিখিত বিষয়সমূহ ব্যতীত দত্তক গ্রহণ, ইচ্ছাপত্র এবং উত্তরদায়ও উল্লেখিত ছিল ।

 

ধারা -৪ ( রুল (বিধি) প্রণয়ন করার ক্ষমতা )

(১) এই আইনের উদ্দেশ্যসমূহ কার্যকর করার জন্য সরকার বিধি প্রণয়ন করিতে পারেন ।

(২) বিশেষ করিয়া ও পূর্ববর্তী ক্ষমতার সাধারণত্বের হানি না ঘটাইয়া উক্ত বিধিসমূহ নিম্নরূপ বিষয়সমূহের সবগুলি অথবা যেকোনোটির নিমিত্ত বিধান করিতে পারে; যথাঃ

(ক) যেই কতৃর্পক্ষের নিকট এবং যেই ফরমে এই আইন মোতাবেক ঘোষণা করিতে হইবে উহা নির্ধারণের জন্য;

(খ) ঘোষণাপত্র দাখিল করার জন্যও এই আইন অনুযায়ী কর্তব্য পালনরত কোনো ব্যক্তির বেসরকারী আবাসে হাজিরার জন্য প্রদেয় ফী নির্ধারণের জন্য; এবং যে সময়ে উক্ত ফী প্রদেয় হইবে ও যেভাবে উহা ধার্য করা হইবে উহা নির্ধারণের জন্য ।

(৩) এই ধারার বিধানসমূহ অনুযায়ী প্রণীত বিধিসমূহ সরকারী বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশিত হইবে ও ইহার ফলে উহা এমনভাবে কার্যকর হইবে যেন উহা এই আইনে বিধিবদ্ধ করা হইয়াছে ।

 

ধারা -৫ ( কোন কোন পরিস্থিতিতে আদালত কতৃর্ক বিবাহ ভঙ্গ )

বাতিল ।

 

ধারা-৬ ( বাতিল )

নিম্নে উল্লেখিত আইন এবং প্রবিধানের নিম্নে উল্লেখিত বিধানসমূহ যতখানি পর্যন্ত এই আইনের বিধানসমূহের সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ ততখানি পর্যন্ত নিরসন করা হইবে; যথা

(১) ১৯২৭ সালের (চতুর্থ) বোম্বে প্রবিধানের ২৬ ধারা;

(২) বাতিল;

(৩) বাতিল;

(৪) নিরসন করা হইয়াছে;

(৫) ১৮৭২ সালের পাঞ্জাব আইনের ৫ ধারা; এবং

(৬) বাতিল।

তথ্য সূত্র : জনগূরুত্বপূর্ণ  আইন
Acquire the knowledge and share the knowledge so that knowing,learning then sharing - all are the collection

bbasujon

  • Administrator
  • VIP Member
  • *****
  • Posts: 1827
  • I want to show my performance at any where
    • View Profile
    • Higher Education
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১

(১৯৬১ সনের ৮নং অধ্যাদেশ)
 

বিবাহ এবং পারিবারিক আইন কমিশনের কতিপয় সুপারিশ কার্যকর করার জন্য প্রণীত অধ্যাদেশ৷

যেহেতু, বিবাহ এবং পারিবারিক আইন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করা দরকার ও সমীচীন৷ সেহেতু, ১৯৫৮ সালের ৭ই অক্টোবরের ঘোষণা দ্বারা রাষ্ট্রপতি প্রদত্ত ক্ষমতা বলে, নিম্নলিখিত অধ্যাদেশটি প্রণয়ন ও জারী করলেন:

১৷ সংক্ষিপ্ত শিরোনাম, সীমা, প্রয়োগ ও বলবতের সময় (Short title, extent, application and commencement):

এই অধ্যাদেশকে ১৯৬১ সনের 'মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ' নামে অভিহিত করা হবে।

ইহা সমগ্র বাংলাদেশে এবং যে যেখানেই থাকুক না কেন, বাংলাদেশের সকল মুসলিম নাগরিকের উপর প্রযোজ্য হবে।

সরকার, সরকারী গেজেটে বিজ্ঞপ্তি মারফত যে তারিখ নির্ধারণ করবেন, সেই তারিখ হতে উহা কার্যকর হবে।

(উল্লেখ্য যে, ১৯৬১ সনের ১৫ই জুলাই তারিখ হতে এই অধ্যাদেশটি বলবত হয়েছে)

২৷ সংজ্ঞাসমূহ (Definitions): এই অধ্যাদেশে, বিষয়বস্তু বা প্রসঙ্গ হতে বিপরীত কিছু প্রতীয়মান না হলে-

(ক) 'সালিসী পরিষদ' (Arbitration Council) বলতে চেয়ারম্যান এবং এই অধ্যাদেশে উল্লিখিত কোন বিষয়ের সংশ্লিষ্ট পক্ষগণের প্রত্যেকের একজন প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত পরিষদকে বুঝাবে। তবে শর্ত থাকে যে, কোন পক্ষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিনিধি মনোনয়ন করতে ব্যর্থ হলে অনুরূপ প্রতিনিধি ছাড়া গঠিত পরিষদই সালিসী পরিষদ হবে।

(খ) চেয়ারম্যান (Chairman) বলতে বুঝাবে-

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান;

পৌরসভার চেয়ারম্যান;

মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের মেয়র বা প্রশাসক;

সেনানিবাস এলাকায় অত্র অধ্যাদেশ অনুযায়ী চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের জন্য সরকার কর্তৃক মনোনীত ব্যক্তি;

কোন ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন বাতিল করা হলে সেক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক অত্র অধ্যাদেশের অধীনে উক্ত ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালনের জন্য মনোনীত ব্যক্তি।

তবে শর্ত থাকে যে,যেখানে ইউনিয়ন পরিষদ অথবা পৌরসভার চেয়ারম্যান একজন অমুসলমান অথবা তিনি নিজেই সালিসী পরিষদের নিকট কোন দরখাস্ত করতে চাহেন এমন হলে,অথবা অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে, উক্ত ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা উহার একজন মুসলমান সদস্যকে এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্যাবলী পূরণকল্পে একজনকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করবেন।

(গ) 'মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন' (Municipl Corporation) বলতে ১৯৮২ সালের চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন অধ্যাদেশ (১৯৮২ সনের ৩৫ নং অধ্যাদেশ) অথবা ১৯৮৩ সালের ঢাকা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন অধ্যাদেশ (১৯৮৩ সনের ৪০নং অধ্যাদেশ), অথবা ১৯৮৪ সালের খুলনা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন অধ্যাদেশ (১৯৮৪ সনের ৭২ নং অধ্যাদেশ) অনুযায়ী গঠিত মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন বুঝাবে এবং নির্ধারিত এখতিয়ার সম্পন্ন হবে।

(ঘ) 'পৌরসভা' (Paurashava) বলতে ১৯৭৭ সালের পৌরসভা অধ্যাদেশ (১৯৭৭ সনের ২৬ নং অধ্যাদেশ) অনুযায়ী গঠিত পৌরসভা বুঝাইবে এবং নির্ধারিত এখতিয়ার বুঝায়।

(ঙ) 'নির্ধারিত' (Prescribed) বলতে ১১ ধারার অধীনে প্রণীত বিধিমালা দ্বারা নির্ধারিত বুঝায়।

(চ) 'ইউনিয়ন পরিষদ' (Union Parishad) বলতে ১৯৮৩ সালের স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) অধ্যাদেশের (১৯৮৩ সনের ৫১ নং অধ্যাদেশ) এর অধীনে গঠিত এবং উক্ত বিষয়ে নির্ধারিত এখতিয়ার সম্পন্ন ইউনিয়ন পরিষদকে বুঝায়।

৩৷ অত্র অধ্যাদেশ অন্যান্য আইনের উপর প্রাধান্য লাভ করবে (Ordinance to override other laws):

অপর কোন আইন, বিধি অথবা প্রচলিত রীতিতে যাই থাকুক না কেন, এই অধ্যাদেশের বিধানাবলী কার্যকর হবে।

সন্দেহ দূরীকরণের উদ্দেশ্যে, এতদ্বারা ইহা ঘোষণা করা যাচ্ছে যে, ১৯৪০ সালের সালিসী আইন, ১৯০৮ সালের দেওয়ানী কার্যবিধি এবং আদালতের কার্যধারা নিয়ন্ত্রণকারী অপর কোন আইনের কোন ব্যবস্থা সালিশী পরিষদে প্রযোজ্য হবে না।

 

৪৷ উত্তরাধিকার (Succession): যাহার সম্পত্তি উত্তরাধিকার সূত্রে বন্টিত হবে, তার পূর্বে তার কোন পুত্র বা কন্যা মারা গেলে এবং উক্ত ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার সম্পত্তি বন্টনের সময় উক্ত পুত্র বা কন্যার কোন সন্তানাদি থাকলে, তারা প্রতিনিধিত্বের হারে সম্পত্তির ঐ অংশ পাবে, যা তাদের পিতা অথবা মাতা জীবিত থাকলে পেতো।

 

৫৷ [বাতিল এই ধারাটি ১৯৭৪ সালের মুসলিম বিবাহ ও তালাক রেজিষ্ট্রেশন আইন দ্বারা বাদ দেওয়া হয়েছে]

 

৬৷ বহু বিবাহ (Polygamy):

(১) সালিশী পরিষদের লিখিত পূর্বানুমতি ছাড়া কোন ব্যক্তি একটি বিবাহ বলবত থাকলে আরেকটি বিবাহ করতে পারবে না এবং পূর্ব অনুমতি গ্রহণ না করে এই জাতীয় কোন বিবাহ হলে তা মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিষ্ট্রেশন) আইন, ১৯৭৪ (১৯৭৪ সনের ৫২নং আইন) অনুসারে রেজিষ্ট্রি হবে না।

(২) (১) উপ-ধারায় বর্ণিত অনুমতির জন্য নির্দিষ্ট ফিসসহ নির্ধারিত পদ্ধতিতে চেয়ারম্যানের নিকট আবেদন করতে হবে এবং আবেদনপত্রে প্রস্তাবিত বিবাহের কারণ এবং বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের সম্মতি নেওয়া হয়েছে কিনা, তা উল্লেখ করতে হবে।

(৩) উপরোক্ত (২) উপ-ধারা মোতাবেক আবেদনপত্র পাওয়ার পর চেয়ারম্যান আবেদনকারী এবং বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের প্রত্যেককে একজন করে প্রতিনিধি মনোনয়ন করতে বলবেন এবং এইরূপে গঠিত সালিশী পরিষদ যদি মনে করেন যে, প্রস্তাবিত প্রয়োজন এবং ন্যায়সঙ্গত, তা হলে কোন শর্ত থাকলে উহা সাপেক্ষে, প্রার্থিত বিবাহের অনুমতি মঞ্জুর করতে পারেন।

(৪) আবেদনটি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় সালিশী পরিষদ সিদ্ধান্তের কারণসমূহ লিপিবদ্ধ করবেন এবং যে কোন পক্ষ, নির্দিষ্ট ফিস জমা দিয়ে নির্ধারিত পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট মুন্সেফের নিকট রিভিশনের (Revision) জন্য আবেদন দাখিল করতে পারবেন এবং সালিসী পরিষদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে এবং কোন আদালতে উহার বৈধতা সম্পর্কে কোন প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।

(৫) সালিশী পরিষদের অনুমতি ছাড়া কোন ব্যক্তি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলে তাকে-

(ক) অবিলম্বে তার বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের "তাত্ক্ষণিক" অথবা "বিলম্বিত" দেনমোহরের (Prompt or deferred dower) যাবতীয় টাকা পরিশোধ করতে হবে এবং উক্ত টাকা পরিশোধ করা না হলে উহা বকেয়া ভূমি রাজস্বের ন্যায় আদায়যোগ্য হবে।

(খ) অভিযোগক্রমে দোষী সাব্যস্ত হলে সে এক বত্সর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা দশ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হবে।

 

৭৷ তালাক (Talaq):

(১) কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তালাক দিতে চাইলে, তিনি যে কোন পদ্ধতির তালাক ঘোষণার পর যথাশীঘ্র সম্ভব চেয়ারম্যানকে লিখিতভাবে নোটিশ দিবেন এবং স্ত্রীকে উক্ত নোটিশের একটি অনুলিপি (নকল) প্রদান করবেন।

(২) কোন ব্যক্তি (১) উপ-ধারার বিধান লংঘন করলে তিনি এক বত্সর বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় প্রকার দণ্ডনীয় হবেন।

(৩) নিম্নের (৫) উপধারার বিধান অনুসারে প্রকাশ্যে বা অন্য কোনভাবে তালাক, আগে প্রত্যাহার করা না হয়ে থাকলে, (১) উপধারা মোতাবেক চেয়ারম্যানের কাছে নোটিশ প্রদানের তারিখ হতে নব্বই দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত কার্যকরী হবে না।

(৪) উপরোক্ত (১) উপধারা অনুযায়ী নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে চেয়ারম্যান সংশ্লিষ্ট পক্ষদ্বয়ের মধ্যে পুনর্মিলন ঘটানোর উদ্দেশ্যে একটি সালিশী পরিষদ গঠন করবেন এবং উক্ত সালিসী পরিষদ এই জাতীয় পুনর্মিলনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

(৫) তালাক ঘোষণার সময় স্ত্রী গর্ভবতী থাকলে, (৩) উপধারায় বর্নিত সময়কালে অথবা গর্ভাবস্থা, যেটি পরে শেষ হয়, অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তালাক বলবত হবে না।

(৬) অত্র ধারা অনুযায়ী  তালাক দ্বারা যে স্ত্রীর বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটেছে সেই স্ত্রী, এই জাতীয় তালাক তিনবার এইভাবে কার্যকরী না হলে, কোন তৃতীয় ব্যক্তিকে বিবাহ না করে পুনরায় একই স্বামীকে বিবাহ করতে পারবে।

 

৮৷ তালাক ছাড়া অন্যভাবে বিবাহ-বিচ্ছেদ (Dissolution of marriage otherwise than by talaq):

যেক্ষেত্রে তালাক দেয়ার অধিকার যথাযথভাবে স্ত্রীকে অর্পণ করা হয়েছে এবং স্ত্রী সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে ইচ্ছুক বা স্ত্রী তালাক ব্যতীত অন্য কোন উপায়ে বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটাতে চাহে, সেক্ষেত্রে ৭ ধারার বিধানাবলী প্রয়োজনীয় পরিবর্তনসহ যথাসম্ভব প্রযোজ্য হবে।

 

৯৷ ভরণ-পোষণ (Maintenance):

(১) কোন স্বামী তার স্ত্রীকে পর্যাপ্ত ভরণ-পোষণ বা খোরপোষ দানে ব্যর্থ হলে বা একাধিক স্ত্রীর ক্ষেত্রে তাহাদিগকে সমভাবে খোরপোষ না দিলে, স্ত্রী বা স্ত্রীগণ কেহ, অন্য কোন আইনানুগ প্রতিকার প্রার্থনা ছাড়াও চেয়ারম্যানের নিকট দরখাস্ত করতে পারেন। এইক্ষেত্রে চেয়ারম্যান বিষয়টির নিষ্পত্তির জন্য সালিশী পরিষদ গঠন করবেন এবং ঐ পরিষদ স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে ভরণ-পোষণ বাবদ প্রদানের জন্য টাকার পরিমাণ নির্দিষ্ট করে সার্টিফিকেট জারী (ইস্যু) করতে পারবেন।

(২) কোন স্বামী বা স্ত্রী নির্ধারিত পদ্ধতিতে নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে এবং নির্দিষ্ট ফি প্রদান পূর্বক ঐ ইস্যুকৃত সার্টিফিকেট খানা পুর্নবিবেচনা জন্য সংশ্লিষ্ট মুন্সেফের নিকট আবেদন করতে পারবেন এবং তার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে এবং কোন আদালতে এই সম্বন্ধে কোন প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।

(৩) উপরের (১) অথবা (২) উপ-ধারা মোতাবেক দেয় কোন টাকা যথাসময়ে বা সময়মত পরিশোধ করা না হলে বকেয়া ভূমি রাজস্ব হিসাবে আদায় করা চলবে।

 

১০৷ দেনমোহর (Dower):

নিকাহনামা বা বিবাহের চুক্তিতে দেনমোহর পরিশোধের পদ্ধতি নির্দিষ্টভাবে উল্লিখিত না থাকলে, দেনমোহরের সমগ্র অর্থ চাহিবামাত্র পরিশোধযোগ্য (দেয়) বলে ধরে নিতে হবে।

 

১১৷ বিধিমালা প্রণয়নের ক্ষমতা (Power to make rules):

(১) এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য কার্যে পরিণত করার জন্য সরকার বিধিমালা (নিয়মকানুন) প্রণয়ন করতে পারবেন।

(২) এই ধারায় বিধিমালা প্রণয়নের সময় সরকার এইরূপ বিধান রাখতে পারেন যে, বিধিমালার কোনটি   ভঙ্গের জন্য এক মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা পাচশত টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় প্রকার দণ্ড হতে পারে।

(৩) অত্র ধারা অনুসারে প্রণীত বিধিমালা সরকারী গেজেটে প্রকাশিত হবে এবং অতঃপর তা এই অধ্যাদেশে বিধিবদ্ধ হয়েছে বলে গণ্য হবে।

 

১১ ক৷ বিচারের স্থান (Place of trial):

বর্তমানে প্রচলিত অন্য যে কোন আইনে যাই থাকুক না কেন, এই অধ্যাদেশের অধীনে কোন অপরাধের বিচার হবে সেই আদালতে যে আদালতের স্থানীয় সীমারেখার মধ্যে-

(ক) অপরাধটি সংঘটিত হয়েছে; অথবা

(খ) অভিযোগকারী (বাদী) অথবা আসামী (বিবাদী) বসবাস করেন অথবা সর্বশেষ বসবাস করছিল।

 

১২৷ ১৯২৯ সনের বাল্য বিবাহ নিরোধ আইনের সংশোধন (Amendmeent of the Dissolution of Muslim Marriage Act, ১৯২৯):

১ঌ২ঌ সনের বাল্য বিবাহ নিরোধ আইনের -

(১) ২ ধারায় -

(ক) দফা (ক) তে 'চৌদ্দ' শব্দটির স্থলে 'ষোল' শব্দটি বসবে;

(খ) (গ) দফায় 'এবং' শব্দটি বাদ যাবে; এবং

(গ) (ঘ) দফার শেষের দিকে দাড়ির পরিবর্তে কমা বসবে এবং এরপর নিম্নলিখিত নুতন দফা (ঙ), (চ) এবং (ছ) যোগ হবে৷ যথা-

(ঙ) 'মিউনিসিপ্যাল করর্পোরেশন' বলতে ১৯৮২ সালের চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন অধ্যাদেশ (১৯৮২ সনের ৩৫নং অধ্যাদেশ) অথবা ১৯৮৩ সনের ঢাকা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন অধ্যাদেশ). (১৯৮৩ সনের ৪০ নং অধ্যাদেশ) বা ১৯৬৮৪ সালের খুলনা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন অধ্যাদেশ (১৯৮৪ সনের ৭২ নং অধ্যাদেশ)-এর অধীনে গঠিত মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনকে বুঝাবে যার এখতিয়ারের মধ্যে কোন বাল্য-বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়েছে বা হওয়ার উপক্রম হয়েছে;

(চ) 'পৌরসভা' বলতে ১৯৭৭ সনের পৌরসভা অধ্যাদেশের (১৯৭৭ সনের ২৬নং অধ্যাদেশ) অধীনে গঠিত পৌরসভাবে বুঝাবে, যাহার এখতিয়ারের মধ্যে কোন বাল্যবিবাহ হয়েছে বা হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

(ছ) 'ইউনিয়ন পরিষদ' বলতে ১৯৮৩ সনের স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) অধ্যাদেশ (১৯৮৩ সনের ৫১ নং অধ্যাদেশ) অনুসারে ইউনিয়ন পরিষদ, যা এখতিয়ারে মধ্যে কোন বাল্য বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়েছে বা হওয়ার উপক্রম হয়েছ।

(২) ৩ ধারাটি বাদ যাবে।

(৩) ৪ ধারায় 'একুশ' শব্দের পরিবর্তে 'আঠার' শব্দটি বসবে।

(৪) ৯ ধারায় 'অত্র আইনানুসারে'  শব্দগুলির পর 'ইউনিয়ন পরিষদ' অথবা সংশ্লিষ্ট এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা না থাকলে সরকার কর্তৃক উক্ত বিষয়ে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের অভিযোগ ব্যতীত কোন অবস্থায় এইরূপ মামলা বিচারার্থ গ্রহণ করা যাবে না৷ শব্দগুলি যুক্ত হবে; এবং

(৫) ১১ ধারাটি বাদ যাবে ।

 

১৩ ৷ ১৯৩৯ সনের মুসলিম বিবাহ-বিচ্ছেদ আইনের ( ১৯৩৯ সালের ৮ নং আইনের) সংশোধন:

১৯৩৯ সনের মুসলিম বিবাহ-বিচ্ছেদ আইনের (১৯৩৯ সালের ৮ নং আইন) এর ২ ধারায়-

(ক) দফা (ii)-এর পর নিম্নলিখিত নুতন উপ-দফা ( ii-ক) যুক্ত হবে, যথা:

(ii-ক) যেহেতু স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ব্যবস্থাবলী লংঘন করা একজন অতিরিক্ত স্ত্রী গ্রহণ করেছে; এবং

(খ) (vii) দফায় 'পনের'  শব্দটির পরিবর্তে 'ষোল' শব্দটি বসবে।
Acquire the knowledge and share the knowledge so that knowing,learning then sharing - all are the collection

bbasujon

  • Administrator
  • VIP Member
  • *****
  • Posts: 1827
  • I want to show my performance at any where
    • View Profile
    • Higher Education
মুসলিম পারিবারিক আইন বিধিমালা, ১৯৬১

------------------------------------------------------------------

 

১৯৬১  সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ১১ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার নিম্নলিখিত বিধিমালা প্রণয়ন করিলেন; যথা

 

বিধি -১ :  অত্র বিধিমালা ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন বিধিমালা নামে অভিহিত হইবে ।

 

বিধি -২ : অত্র বিধিমালার বিষয়ে অথবা প্রসঙ্গে বিপরীত কোনো কিছু বর্তমানে থাকিলে-

(ক) ''চেয়ারম্যান'' বলিতে অধ্যাদেশে যেমন সংজ্ঞা প্রদান করা হইয়াছে সেইরূপ একই অর্থ বুঝাইবে;

(খ) ''ফরম'' বলিতে অত্র বিধিমালার সহিত সংযুক্ত ফরমকে বুঝাইবে;

(গ) ''স্থানীয় এলাকা'' বলিতে কোনো পৌর কর্পোরেশন, পৌরসভা অথবা ইউনিয়ন পরিষদের আওতাধীন এলাকাকে বুঝাইবে;

(ঘ) ''মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন'' বলিতে অধ্যাদেশে যেমন সংজ্ঞা প্রদান করা হইয়াছে তেমন একই অর্থ বুঝাইবে;

(ঙ) ''অধ্যাদেশ'' বলিতে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ (১৯৬১ সালের ৮নং আইন)-কে বুঝাইবে;

(চ) ''পৌরসভা'' বলিতে অধ্যাদেশে যেমন সংজ্ঞা প্রদান করা হইয়াছে তেমন একই অর্থ বুঝাইবে;

(ছ) ''ধারা'' বলিতে অধ্যাদেশে কোন ধারাকে বুঝাইবে; এবং

(জ) ''ইউনিয়ন পরিষদ'' বলিতে অধ্যাদেশে যেমন সংজ্ঞা প্রদান করা হইয়াছে সেইরূপ একই অর্থ বুঝাইবে ।

 

বিধি-৩ : ধারার গ, ঘ অথবা চ অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্যে কথিত বিষয়ে যে পৌর কর্পোরেশন, পৌরসভা অথবা ইউনিয়ন পরিষদের আওতা বা এখতিয়ার থাকিবে তাহা নিম্নবর্ণিত রূপ হইবে :

(ক) ৬ ধারার ২ উপধারার দরখাস্তের বেলায় ইহা সেই পৌর কর্পোরেশন, পৌরসভা অথবা ইউনিয়ন পরিষদ হইবে যেখানে বর্তমান স্ত্রী অথবা যেক্ষেত্রে একাধিক স্ত্রী বর্তমান, সেইক্ষেত্রে যে স্ত্রীর সহিত স্বামী সর্বশেষে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হইয়াছিল সেই স্ত্রী স্বামীর দরখাস্ত দাখিলের সময় বসবাস করিতেছে ।

(খ) ৭ ধারার ১ উপধারার নোটিশের বেলায় ইহা সেই পৌর কর্পোরেশন, পৌরসভা অথবা ইউনিয়ন পরিষদ হইবে যেখানে যেই স্ত্রী সম্বন্ধে তালাক উচ্চারণ করা হইয়াছে সেই স্ত্রী তালাক উচ্চারণ করার সময় বসবাস করিতেছিল এবং

(গ) ৯ ধারার দরখাস্তের বেলায় ইহা সেই পৌর কর্পোরেশন, পৌরসভা অথবা ইউনিয়ন পরিষদ হইবে যেখানে স্ত্রী তাহার দরখাস্ত দাখিলের সময় বসবাস করিতেছে ও যদি একাধিক স্ত্রী উক্ত ধারায় দরখাস্ত দেয় তবে উহা সেই পৌর কর্পোরেশন, পৌরসভা অথবা ইউনিয়ন পরিষদ হইবে যেখানে সর্বপ্রথম দরখাস্তকারিণী স্ত্রী তাহার দরখাস্ত দাখিলের সময় বসবাস করিতেছে ।

 

বিধি-৪ : (১) যদি কোনো পৌর কর্পোরেশন, পৌরসভা অথবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরূপে কোনো অমুসলিম, নির্বাচিত হয় তবে সেইক্ষেত্রে উক্ত কর্পোরেশন, পৌরসভা অথবা ইউনিয়ন পরিষদ যত শীঘ্র সম্ভব হইতে পারে তত শীঘ্র অধ্যাদেশের কার্যকারিতার্থে ইহার কোনো মুসলিম সদস্যকে চেয়ারম্যানরূপে নির্বাচিত করিবেন ।

(২) সালিশী পরিষদের কার্যক্রমে কোনো পক্ষ চেয়ারম্যানকে অপর পক্ষের অনুকূলে স্বার্থান্বিত বলিয়া মনে করিলে অন্য কাহাকেও চেয়ারম্যান নিযুক্তির নিমিত্ত লিখিতভাবে রেকর্ডতব্য হেতুসমূহসহ যেমন নির্ধারিত হইতে পারে তেমন ব্যক্তির নিকট দরখাস্ত করিতে পারেন যিনি যথাযথ মনে করিলে উক্ত কর্পোরেশন, পৌরসভা অথবা ইউনিয়ন পরিষদের অপর কোনো সদস্যকে অধ্যাদেশের কার্যকারিতার্থে হিসাবে নিযুক্ত করিতে পারে এবং এইরূপ নির্ধারিত ব্যক্তি উক্ত দরখাস্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সালিশী পরিষদের কার্যক্রম স্থগিত রাখিবেন ।

 

বিধি-৫ : (১) সালিশী পরিষদে আনীত কার্যব্যবস্থা চেয়ারম্যান যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পরিচালনা করিবেন ।

(২) কোনো ব্যক্তির প্রতিনিধি মনোনয়নে ব্যর্থতার দরুন অথবা অন্য কোনোভাবে সালিশী পরিষদে কোনো পদ খালি হওয়ার কারণে এইরূপ কার্যক্রম ত্রুটিযুক্ত হইবে না ।

(৩) যদি মনোনয়ন প্রদানে ব্যর্থতার কারণ ব্যতীত অন্য কোনোভাবে পদশূন্য হয় তবে সেক্ষেত্রে চেয়ারম্যান নুতন মনোনয়ন দাবি করিবেন ।

(৪) সালিশী পরিষদের কার্যক্রমের কোনো পক্ষই উক্ত পরিষদের সদস্য হইতে পারিবে না ।

(৫) সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সালিশী পরিষদের সকল সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে এবং যদি কোনো সিদ্ধান্তই সালিশী পরিষদের সিদ্ধান্ত হিসাবে গণ্য হইবে ।

 

বিধি-৬ : (১) ৬ ধারার ২ উপধারায় অথবা ৯ ধারার ১ উপধারায় কোনো দরখাস্ত বা ৭ ধারার ১ উপধারায় কোনো নোটিশ প্রাপ্তির সাত দিনের ভিতর চেয়ারম্যান লিখিত আদেশ মাধ্যমে পক্ষগণের প্রত্যেককে তাহার প্রতিনিধি মনোনয়ন করিতে নির্দেশ দিবেন ও এইরূপ প্রত্যেক পক্ষ উক্ত আদেশ প্রাপ্তির সাত দিনের ভিতর লিখিতভাবে তাহার একজন প্রতিনিধি মনোনয়ন করিবে ও চেয়ারম্যানের নিকট মনোনয়ন দাখিল করিবে বা রেজিস্ট্রি ডাকযোগে চেয়ারম্যানকে ইহা পাঠাইবে ।

(২) যদি কোনো পক্ষের মনোনীত প্রতিনিধি মৃত্যুমুখে পতিত হয় বা অসুস্থতা বা অন্যবিধ কারণে সালিশী পরিষদের মিটিং-এ অনুপস্থিত থাকেন বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের অনাস্থাভাজন হন তবে এইরূপক্ষেত্রে পক্ষটি চেয়ারম্যানের লিখিত পূর্বানুমতিক্রমে মনোনয়নটি প্রত্যাহার করিতে পারেও চেয়ারম্যান যে সময় মঞ্জুর করিতে পারেন সেই সময়ের ভিতর নূতন মনোনয়ন প্রদান করিতে হইবে ।

(৩) যদি ২ উপধারা অনুযায়ী নূতন মনোনয়ন প্রদান করা হয় তবে চেয়ারম্যান লিখিতভাবে রেকর্ডকৃতব্য কারণে ভিন্নরূপ নির্দেশ প্রদান না করিলে সালিশী পরিষদ উহার কার্যক্রম নূতনভাবে শুরু করার প্রয়োজন পড়িবে না ।

 

বিধি  ৭-১৩ ( বাতিল ।)

 

বিধি -১৪ : বহুবিবাহঃ একটি বর্তমান বিবাহ বলবত থাকাকালীন অন্য একটি প্রস্তাবিত বিবাহ ন্যায়সঙ্গত এবং প্রয়োজনীয় কিনা তাহা বিবেচনার সময় সালিশী পরিষদ ইহার সাধারণ ক্ষমতার ক্ষতি না করিয়া অন্যান্যের সহিত নিম্নলিখিত পরিস্থিতিগুলির দিকে নজর রাখিবেন-

কোনো বর্তমান স্ত্রীর বেলায় বন্ধাত্ব দৈহিক দৌর্বল্য, দাম্পত্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে দৈহিক অনুপযুক্ততা, দাম্পত্য জীবন পুনরুদ্ধারের নিমিত্ত একটি ডিক্রি ইচ্ছাকৃতভাবে এড়াইয়া চলা অথবা বর্তমান স্ত্রীর অপ্রকৃতিস্থতা ।

 

বিধি -১৫ : একটি বর্তমান বিবাহ বলবত্‍ থাকাকালীন অন্য একটি বিবাহ চুক্তি করার অনুমতি প্রদানের নিমিত্ত ৬ ধারার ১ উপধারায় কোনো দরখাস্ত লিখিতভাবে করিতে হইবে, ইহাতে বর্তমান স্ত্রী অথবা স্ত্রীগণের সম্মতি নেওয়া হইয়াছে কিনা উহা বর্ণনা করিতে হইবে, যে কারণসমূহের ভিত্তিতে নূতন বিবাহটি ন্যায়সঙ্গত এবং প্রয়োজনীয় বলা হইয়াছে সেইগুলি সংক্ষিপ্তভাবে দরখাস্তে বর্ণনা করিতে হইবে । দরখাস্তকারীর দস্তখত উহাতে থাকিতে হইবে এবং পঁচিশ টাকার ফী তত্সঙ্গে যুক্ত করিতে হইবে ।

 

বিধি -১৬ :রিভিশনঃ (১) ৬ ধারার ৪ উপধারায় প্রদত্ত সালিশী পরিষদের সিদ্ধান্ত বা ৯ ধারার ২ উপধারায় প্রদত্ত কোনো সার্টিফিকেট রিভিশনের নিমিত্ত কোনো দরখাস্ত সিদ্ধান্তটি অথবা সার্টিফিকেট, সে যাহাই হউক প্রদানের ত্রিশ দিনের ভিতর দাখিল করিতে হইবে ও তত্সহ দুই টাকার ফী সংযুক্ত করিতে হইবে ।

(২) দরখাস্তখানা লিখিত হইতে হইবে এবং যে সকল কারণসমূহের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তটি অথবা সার্টিফিকেটটির রিভিশন চাওয়া হয় উহা বর্ণনা করিতে হইবে ও ইহাতে দরখাস্তকারীর দস্তখত থাকিতে হইবে ।

 

বিধি -১৭ : গোপন কার্যক্রমঃ চেয়ারম্যান অন্যরূপ নির্দেশ প্রদান না করিলে সালিশী পরিষদের সকল কার্যক্রম গোপনে অনুষ্ঠিত হইবে ।

 

বিধি -(১৮ - ২০ ) বাতিল ।
 

তথ্য সূত্র : জনগূরুত্বপূর্ণ  আইন
Acquire the knowledge and share the knowledge so that knowing,learning then sharing - all are the collection

bbasujon

  • Administrator
  • VIP Member
  • *****
  • Posts: 1827
  • I want to show my performance at any where
    • View Profile
    • Higher Education
মুসলিম পারিবারিক আইন বিধিমালা, ১৯৬১

------------------------------------------------------------------

 

১৯৬১  সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ১১ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার নিম্নলিখিত বিধিমালা প্রণয়ন করিলেন; যথা

 

বিধি -১ :  অত্র বিধিমালা ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন বিধিমালা নামে অভিহিত হইবে ।

 

বিধি -২ : অত্র বিধিমালার বিষয়ে অথবা প্রসঙ্গে বিপরীত কোনো কিছু বর্তমানে থাকিলে-

(ক) ''চেয়ারম্যান'' বলিতে অধ্যাদেশে যেমন সংজ্ঞা প্রদান করা হইয়াছে সেইরূপ একই অর্থ বুঝাইবে;

(খ) ''ফরম'' বলিতে অত্র বিধিমালার সহিত সংযুক্ত ফরমকে বুঝাইবে;

(গ) ''স্থানীয় এলাকা'' বলিতে কোনো পৌর কর্পোরেশন, পৌরসভা অথবা ইউনিয়ন পরিষদের আওতাধীন এলাকাকে বুঝাইবে;

(ঘ) ''মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন'' বলিতে অধ্যাদেশে যেমন সংজ্ঞা প্রদান করা হইয়াছে তেমন একই অর্থ বুঝাইবে;

(ঙ) ''অধ্যাদেশ'' বলিতে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ (১৯৬১ সালের ৮নং আইন)-কে বুঝাইবে;

(চ) ''পৌরসভা'' বলিতে অধ্যাদেশে যেমন সংজ্ঞা প্রদান করা হইয়াছে তেমন একই অর্থ বুঝাইবে;

(ছ) ''ধারা'' বলিতে অধ্যাদেশে কোন ধারাকে বুঝাইবে; এবং

(জ) ''ইউনিয়ন পরিষদ'' বলিতে অধ্যাদেশে যেমন সংজ্ঞা প্রদান করা হইয়াছে সেইরূপ একই অর্থ বুঝাইবে ।

 

বিধি-৩ : ধারার গ, ঘ অথবা চ অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্যে কথিত বিষয়ে যে পৌর কর্পোরেশন, পৌরসভা অথবা ইউনিয়ন পরিষদের আওতা বা এখতিয়ার থাকিবে তাহা নিম্নবর্ণিত রূপ হইবে :

(ক) ৬ ধারার ২ উপধারার দরখাস্তের বেলায় ইহা সেই পৌর কর্পোরেশন, পৌরসভা অথবা ইউনিয়ন পরিষদ হইবে যেখানে বর্তমান স্ত্রী অথবা যেক্ষেত্রে একাধিক স্ত্রী বর্তমান, সেইক্ষেত্রে যে স্ত্রীর সহিত স্বামী সর্বশেষে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হইয়াছিল সেই স্ত্রী স্বামীর দরখাস্ত দাখিলের সময় বসবাস করিতেছে ।

(খ) ৭ ধারার ১ উপধারার নোটিশের বেলায় ইহা সেই পৌর কর্পোরেশন, পৌরসভা অথবা ইউনিয়ন পরিষদ হইবে যেখানে যেই স্ত্রী সম্বন্ধে তালাক উচ্চারণ করা হইয়াছে সেই স্ত্রী তালাক উচ্চারণ করার সময় বসবাস করিতেছিল এবং

(গ) ৯ ধারার দরখাস্তের বেলায় ইহা সেই পৌর কর্পোরেশন, পৌরসভা অথবা ইউনিয়ন পরিষদ হইবে যেখানে স্ত্রী তাহার দরখাস্ত দাখিলের সময় বসবাস করিতেছে ও যদি একাধিক স্ত্রী উক্ত ধারায় দরখাস্ত দেয় তবে উহা সেই পৌর কর্পোরেশন, পৌরসভা অথবা ইউনিয়ন পরিষদ হইবে যেখানে সর্বপ্রথম দরখাস্তকারিণী স্ত্রী তাহার দরখাস্ত দাখিলের সময় বসবাস করিতেছে ।

 

বিধি-৪ : (১) যদি কোনো পৌর কর্পোরেশন, পৌরসভা অথবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরূপে কোনো অমুসলিম, নির্বাচিত হয় তবে সেইক্ষেত্রে উক্ত কর্পোরেশন, পৌরসভা অথবা ইউনিয়ন পরিষদ যত শীঘ্র সম্ভব হইতে পারে তত শীঘ্র অধ্যাদেশের কার্যকারিতার্থে ইহার কোনো মুসলিম সদস্যকে চেয়ারম্যানরূপে নির্বাচিত করিবেন ।

(২) সালিশী পরিষদের কার্যক্রমে কোনো পক্ষ চেয়ারম্যানকে অপর পক্ষের অনুকূলে স্বার্থান্বিত বলিয়া মনে করিলে অন্য কাহাকেও চেয়ারম্যান নিযুক্তির নিমিত্ত লিখিতভাবে রেকর্ডতব্য হেতুসমূহসহ যেমন নির্ধারিত হইতে পারে তেমন ব্যক্তির নিকট দরখাস্ত করিতে পারেন যিনি যথাযথ মনে করিলে উক্ত কর্পোরেশন, পৌরসভা অথবা ইউনিয়ন পরিষদের অপর কোনো সদস্যকে অধ্যাদেশের কার্যকারিতার্থে হিসাবে নিযুক্ত করিতে পারে এবং এইরূপ নির্ধারিত ব্যক্তি উক্ত দরখাস্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সালিশী পরিষদের কার্যক্রম স্থগিত রাখিবেন ।

 

বিধি-৫ : (১) সালিশী পরিষদে আনীত কার্যব্যবস্থা চেয়ারম্যান যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পরিচালনা করিবেন ।

(২) কোনো ব্যক্তির প্রতিনিধি মনোনয়নে ব্যর্থতার দরুন অথবা অন্য কোনোভাবে সালিশী পরিষদে কোনো পদ খালি হওয়ার কারণে এইরূপ কার্যক্রম ত্রুটিযুক্ত হইবে না ।

(৩) যদি মনোনয়ন প্রদানে ব্যর্থতার কারণ ব্যতীত অন্য কোনোভাবে পদশূন্য হয় তবে সেক্ষেত্রে চেয়ারম্যান নুতন মনোনয়ন দাবি করিবেন ।

(৪) সালিশী পরিষদের কার্যক্রমের কোনো পক্ষই উক্ত পরিষদের সদস্য হইতে পারিবে না ।

(৫) সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সালিশী পরিষদের সকল সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে এবং যদি কোনো সিদ্ধান্তই সালিশী পরিষদের সিদ্ধান্ত হিসাবে গণ্য হইবে ।

 

বিধি-৬ : (১) ৬ ধারার ২ উপধারায় অথবা ৯ ধারার ১ উপধারায় কোনো দরখাস্ত বা ৭ ধারার ১ উপধারায় কোনো নোটিশ প্রাপ্তির সাত দিনের ভিতর চেয়ারম্যান লিখিত আদেশ মাধ্যমে পক্ষগণের প্রত্যেককে তাহার প্রতিনিধি মনোনয়ন করিতে নির্দেশ দিবেন ও এইরূপ প্রত্যেক পক্ষ উক্ত আদেশ প্রাপ্তির সাত দিনের ভিতর লিখিতভাবে তাহার একজন প্রতিনিধি মনোনয়ন করিবে ও চেয়ারম্যানের নিকট মনোনয়ন দাখিল করিবে বা রেজিস্ট্রি ডাকযোগে চেয়ারম্যানকে ইহা পাঠাইবে ।

(২) যদি কোনো পক্ষের মনোনীত প্রতিনিধি মৃত্যুমুখে পতিত হয় বা অসুস্থতা বা অন্যবিধ কারণে সালিশী পরিষদের মিটিং-এ অনুপস্থিত থাকেন বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের অনাস্থাভাজন হন তবে এইরূপক্ষেত্রে পক্ষটি চেয়ারম্যানের লিখিত পূর্বানুমতিক্রমে মনোনয়নটি প্রত্যাহার করিতে পারেও চেয়ারম্যান যে সময় মঞ্জুর করিতে পারেন সেই সময়ের ভিতর নূতন মনোনয়ন প্রদান করিতে হইবে ।

(৩) যদি ২ উপধারা অনুযায়ী নূতন মনোনয়ন প্রদান করা হয় তবে চেয়ারম্যান লিখিতভাবে রেকর্ডকৃতব্য কারণে ভিন্নরূপ নির্দেশ প্রদান না করিলে সালিশী পরিষদ উহার কার্যক্রম নূতনভাবে শুরু করার প্রয়োজন পড়িবে না ।

 

বিধি  ৭-১৩ ( বাতিল ।)

 

বিধি -১৪ : বহুবিবাহঃ একটি বর্তমান বিবাহ বলবত থাকাকালীন অন্য একটি প্রস্তাবিত বিবাহ ন্যায়সঙ্গত এবং প্রয়োজনীয় কিনা তাহা বিবেচনার সময় সালিশী পরিষদ ইহার সাধারণ ক্ষমতার ক্ষতি না করিয়া অন্যান্যের সহিত নিম্নলিখিত পরিস্থিতিগুলির দিকে নজর রাখিবেন-

কোনো বর্তমান স্ত্রীর বেলায় বন্ধাত্ব দৈহিক দৌর্বল্য, দাম্পত্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে দৈহিক অনুপযুক্ততা, দাম্পত্য জীবন পুনরুদ্ধারের নিমিত্ত একটি ডিক্রি ইচ্ছাকৃতভাবে এড়াইয়া চলা অথবা বর্তমান স্ত্রীর অপ্রকৃতিস্থতা ।

 

বিধি -১৫ : একটি বর্তমান বিবাহ বলবত্‍ থাকাকালীন অন্য একটি বিবাহ চুক্তি করার অনুমতি প্রদানের নিমিত্ত ৬ ধারার ১ উপধারায় কোনো দরখাস্ত লিখিতভাবে করিতে হইবে, ইহাতে বর্তমান স্ত্রী অথবা স্ত্রীগণের সম্মতি নেওয়া হইয়াছে কিনা উহা বর্ণনা করিতে হইবে, যে কারণসমূহের ভিত্তিতে নূতন বিবাহটি ন্যায়সঙ্গত এবং প্রয়োজনীয় বলা হইয়াছে সেইগুলি সংক্ষিপ্তভাবে দরখাস্তে বর্ণনা করিতে হইবে । দরখাস্তকারীর দস্তখত উহাতে থাকিতে হইবে এবং পঁচিশ টাকার ফী তত্সঙ্গে যুক্ত করিতে হইবে ।

 

বিধি -১৬ :রিভিশনঃ (১) ৬ ধারার ৪ উপধারায় প্রদত্ত সালিশী পরিষদের সিদ্ধান্ত বা ৯ ধারার ২ উপধারায় প্রদত্ত কোনো সার্টিফিকেট রিভিশনের নিমিত্ত কোনো দরখাস্ত সিদ্ধান্তটি অথবা সার্টিফিকেট, সে যাহাই হউক প্রদানের ত্রিশ দিনের ভিতর দাখিল করিতে হইবে ও তত্সহ দুই টাকার ফী সংযুক্ত করিতে হইবে ।

(২) দরখাস্তখানা লিখিত হইতে হইবে এবং যে সকল কারণসমূহের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তটি অথবা সার্টিফিকেটটির রিভিশন চাওয়া হয় উহা বর্ণনা করিতে হইবে ও ইহাতে দরখাস্তকারীর দস্তখত থাকিতে হইবে ।

 

বিধি -১৭ : গোপন কার্যক্রমঃ চেয়ারম্যান অন্যরূপ নির্দেশ প্রদান না করিলে সালিশী পরিষদের সকল কার্যক্রম গোপনে অনুষ্ঠিত হইবে ।

 

বিধি -(১৮ - ২০ ) বাতিল ।
 

তথ্য সূত্র : জনগূরুত্বপূর্ণ  আইন
Acquire the knowledge and share the knowledge so that knowing,learning then sharing - all are the collection

bbasujon

  • Administrator
  • VIP Member
  • *****
  • Posts: 1827
  • I want to show my performance at any where
    • View Profile
    • Higher Education
পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫

[১৯৮৫ সালের ১৮ নং আইন]

পারিবারিক আদালত গঠনের ব্যবস্থাকল্পে প্রণীত অধ্যাদেশ, যেহেতু পারিবারিক আদালত স্থাপন এবং এতদসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা সমীচীন; সেহেতু ১৯৮২ সনের ২৪শে মার্চের ফরমান অনুসারে ও এই সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে সক্ষমকারী সমস্ত ক্ষমতা প্রয়োগক্রমে তিনি নিম্নোক্ত অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করিতে মর্জি করিয়াছেন:

ধারা

১৷ সংক্ষিপ্ত শিরোনাম, আওতা এবং প্রবর্তন:

 (১) অত্র অধ্যাদেশ "পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫" নামে অভিহিত হইবে ৷

 (২) ইহা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলাসমূহ ব্যতীত সমস্ত বাংলাদেশে প্রযোজ্য হইবে ৷

 (৩) সরকার সরকারী গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে যে তারিখ ধার্য্য করিবে সেই তারিখ হইতে ইহা কার্যকর হইবে ৷

ধারা

২৷ সংজ্ঞা সমূহ:

 (১) বিষয় অথবা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছুর অবর্তমানে, অত্র অধ্যাদেশে -

(ক) 'বিধি' (Code) বলিতে ১৯০৮ সনের দেওয়ানী কার্যবিধি (১৯০৮ সনের ৫ নং আইন)-কে   বুঝাইবে৷

(খ) 'পারিবারিক আদালত' বলিতে অত্র অধ্যাদেশের অধীনে স্থাপিত পারিবারিক আদালতকে

(গ) 'নির্ধারিত' বলিতে অত্র অধ্যাদেশের অধীনে প্রণীত বিধিসমূহ কর্তৃক নির্ধারিত বুঝাইবে৷

 (২) সংজ্ঞায়িত নহে অথচ অত্র অধ্যাদেশে ব্যবহৃত এমন শব্দ এবং শব্দসমষ্টি যথাক্রমে বিধিতে উল্লেখিত শব্দ এবং শব্দসমষ্টির অনুরূপ অর্থবহ হইবে৷

ধারা

৩৷ অন্যান্য আইনের উপর অত্র অধ্যাদেশের প্রাধান্য (কার্যকারিতা):

বর্তমান বলবত অন্য কোন আইনে যাহাই থাকুক না কেন, অত্র অধ্যাদেশের বিধানসমূহ কার্যকর হইবে৷

ধারা

৪৷ পারিবারিক আদালত স্থাপন:

 (১) যতগুলো সহকারী জজ আদালত আছে ততগুলো পারিবারিক আদালত থাকিবে৷

 (২) অত্র অধ্যাদেশের উদ্দেশ্যসমূহ সাধনার্থে সকল সহকারী জজ আদালত পারিবারিক আদালত হিসাবে গণ্য হইবে৷

সকল সহকারী জজ পারিবারিক আদালতের বিচারক হইবেন৷

ধারা

৫৷ পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার:

১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ (১৯৬১ সনের ৮নং অধ্যাদেশ)- এর বিধানাবলী সাপেক্ষে কোন পারিবারিক আদালতের পাঁচটি বিষয়াদির সকল অথবা যেকোনটির সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়ে যেকোন মামলা গ্রহণ, বিচার এবং নিষ্পত্তি করার একক এখতিয়ার থাকবে ৷ বিষয়গুলো হলো:

(ক) বিবাহবিচ্ছেদ, (খ) দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার, (গ) মোহরানা, (ঘ) ভরণপোষণ ও (ঙ) সন্তান-সন্ততিগণের অভিভাবকত্ব ও তত্ত্বাবধান ৷

ধারা

৬৷ মামলা দায়েরকরণ:

(১) এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী প্রত্যেক মোকদ্দমা সেই পারিবারিক আদালত আরজি উপস্থাপনের মাধ্যমে দায়ের করিতে হইবে যাহার স্থানীয় এখতিয়ারের মধ্যে  -

    (ক) নালিশের কারণটি সম্পূর্ণ অথবা আংশিকভাবে উদ্ভূত হইয়াছে; অথবা

    (খ) পক্ষগণ বসবাস করেন অথবা সর্বশেষ একসঙ্গে বসবাস করিয়াছিলেন৷

শর্ত থাকে যে, বিবাহবিচ্ছেদ, দেনমোহর অথবা ভরণপোষণের নিমিত্ত মামলার ক্ষেত্রে যে এলাকায় স্ত্রী সাধারণতঃ বসবাস করিতেছে সেই এলাকার আদালতেরও এখতিয়ার থাকিবে ৷

(২) যেক্ষেত্রে এখতিয়ারবিহীন কোন আদালত আরজি দাখিল করা হয় সেইক্ষেত্রে -

   (ক) আরজিটি যে আদালতে দাখিল করা উচিত ছিল সেই আদালতে উপস্থাপনের জন্য ফেরত দেওয়া হইবে;

  (খ) আরজি ফেরতদানকারী আদালত, তত্‍বরাবরে আরজি উপস্থাপনের ও ইহার প্রত্যর্পণের তারিখ, আরজি দাখিলকারী পক্ষের নাম ও প্রত্যর্পণের কারণসমূহের সংক্ষিপ্ত বিবরণ আরজির উপর লিপিবদ্ধ করিবেন৷

(৩)  আরজিতে বিরোধ সম্বন্ধীয় প্রয়োজনীয় সমস্ত তথ্যাবলী অন্তর্ভুক্ত থাকিবে ও একটি তফসিল অবশ্যই আরজির অন্তর্ভুক্ত থাকিবে যাহাতে আরজির সমর্থনে যে সকল সাক্ষীকে ডাকিতে ইচ্ছুক তাহাদের নাম ও ঠিকানাসমূহও থাকিবে৷

শর্ত থাকে যে, বাদী আদালতের অনুমতিক্রমে পরবর্তী যেকোন স্তরে যেকোন ডাকিতে পারে - যদি আদালত ন্যায়বিচারের স্বার্থে উক্তরূপ সাক্ষ্য গ্রহণ সমীচীন মনে করেন ৷

(৪) আরজিতে নিম্নোক্ত বিবরণসমূহ অন্তর্ভুক্ত থাকিবে; যথা:

    (ক) যেই আদালতে মামলা দায়ের করা হইল উহার নাম;

    (খ) বাদীর নাম, বর্ণনা এবং বাসস্থান;

    (গ) বিবাদীর নাম, বর্ণনা এবং বাসস্থান;

    (ঘ) যেক্ষেত্রে বাদী অথবা বিবাধী নাবালক কিংবা অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তি হয় সেইক্ষেত্রে উক্ত মর্মে বর্ণনা

   (ঙ) নালিশের কারণঘটিত তথ্যসমূহ ও যেই স্থানে এবং যেই তারিখ নালিশের কারণের উদ্ভব হইয়াছে সেই স্থান এবং তারিখ;

   (চ) আদালতের এখতিয়ার প্রদর্শনকারী তথ্যসমূহ;

   (ছ) বাদী কর্তৃক প্রার্থিত প্রতিকার ৷

(৫) বাদী তাহার দাবির সমর্থনে সাক্ষ্য হিসাবে তাহার দখলাধীন অথবা ক্ষমতা কোন দলিলের উপর নির্ভর করিলে তিনি আরজি উপস্থাপনকালে আদালত উহা পেশ করিবেন ও একই সঙ্গে উক্ত দলিল অথবা উহার অবিকল বা ফটোকৃত প্রতিলিপি আরজির সহিত নথিভুক্তির জন্য একটি লিস্টভুক্ত করিবেন ৷

(৬) যেক্ষেত্রে বাদী তাহার দাবির সমর্থনে সাক্ষ্য হিসাবে তাহার স্বীয় দখল বা আয়ত্তাধীন এমন কোন দলিলের উপর নির্ভর করেন সেইক্ষেত্রে তিনি উক্ত দলিলটি আরজির সহিত সংযোজন করণার্থে একটি ফিরিস্তিভুক্ত করতঃ সংশ্লিষ্ট দলিলটি কাহার দখলে অথবা আয়ত্তাধীনে রহিয়াছে তাহা বর্ণনা করিবেন ৷

(৭) মামলার বিবাদীগণের উপর জারি করার নিমিত্ত বিবাদীগণের সংখ্যার দ্বিগুণ সংখ্যক তফসিলসহ আরজির সত্যায়িত প্রতিলিপি এবং ৫ ও ৬ নং উপধারায় বর্ণিত দলিলের তালিকা দ্বিগুণ পরিমাণ আরজির সহিত থাকিবে ৷

(৮) নিম্নলিখিত কারণে আরজি অগ্রাহ্য বা নাকচ হইবে -

 (ক) ৭ উপধারা অনুযায়ী যেক্ষেত্রে আরজির সঙ্গে তফসিলও দেওয়া হয় ;

 (খ) যেক্ষেত্রে ৭(৫) ধারা অনুযায়ী সমন জারির খরচ এবং নোটিসের জন্য পোস্টাল খরচ পরিশোধ না   করা হয়;   (গ) যেক্ষেত্রে আরজি উপস্থাপনের সময় ২২ ধারা অনুযায়ী ফী পরিশোধ না করা হয়৷

(৯) যেক্ষেত্রে আরজি উপস্থাপনের সময় বাদী আদালতে কোন দলিল দাখিল করা উচিত অথবা উহা আরজির সহিত সংযুক্ত করার জন্য কোন লিস্টভুক্ত করা উচিত এবং যদি উহা উক্তরূপে দাখিল বা লিস্টভুক্ত না করা হয় তবে মামলার শুনানির সময় আদালতের অনুমতি ব্যতীত উহা আর তাহার পক্ষে সাক্ষ্য হিসাবে ব্যবহার করা যাইবে না৷

 শর্ত থাকে যে, বিশেষ অবস্থা ব্যতীত আদালত ঐরূপ অনুমতি প্রদান করিবেন না ৷

ধারা

৭৷ সমন ও নোটিসসমূহ ইস্যুকরণ:

(১) পারিবারিক আদালতে আরজি উপস্থাপন করা হইলে পর আদালত -

(ক) সাধারণভাবে অনধিক ত্রিশ দিনের মধ্যে বিবাদীর হাজির হওয়ার নিমিত্ত একটি তারিখ ধার্য্য করিবেন ;

(খ) বিবাদীর প্রতি নির্ধারিত তারিখে হাজির হওয়ার এবং উপস্থাপিত দাবির জবাব দানের নিমিত্ত সমন জারি করিবেন ;

(গ) বিবাদীর নিকট প্রাপ্তি স্বীকারপত্রসহ রেজিষ্ট্রি ডাকযোগে মামলার নোটিস প্রেরণ করিবেন ৷

 (২) (১) ১নং উপধারা অনুযায়ী ইস্যুকৃত প্রত্যেকটি সমন ও প্রেরিত প্রত্যেকটি নোটিসের সহিত আরজির নকল এবং ৬(৫) ও ৬(৬) ধারায় বর্ণিত দলিলসমূহের তালিকাসমূহ সংযোজিত থাকিবে৷

(৩) ১নং উপধারার খ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রেরিত সমন দেওয়ানী কার্যবিধি আইনের ৫নং আদেশের ৯, ১০, ১১, ১৬, ১৭, ১৮, ১৯-ক, ২০, ২১, ২৩, ২৪, ২৬, ২৭, ২৮ এবং ২৯ নং রুলসমূহে বর্ণিত উপায়ে জারি করা হইবে ; ও অনুরূপে জারিকৃত সমন বিবাদীর উপর যথোচিত জারি বলিয়া গণ্য হইবে৷

 (৪) ১ নং উপধারার গ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রেরিত নোটিস বিবাদীর উপর যথোচিতভাবে জারিকৃত বলিয়া গণ্য হইবে যখন বিবাদী কর্তৃক স্বাক্ষরিত বলিয়া প্রকাশকারী প্রাপ্তি স্বীকার পত্রটি আদালত গৃহীত হয় বা আদালত নোটিস বহনকারী ডাকটি ডাক কর্মচারীর এই মমেᐂ লিখিত মন্তব্যসহ ফেরত পায় যে, বিবাদীর গ্রহণাথেᐂ প্রেরিত বহনকারী ডাকটি তত্‍বরাবরে অপᐂণ করিলে পর তিনি উহা গ্রহণে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করিয়াছেন৷

শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে নোটিসটি সঠিক ঠিকানাযুক্ত, ডাকমাশুল পরিশোধিত এবং প্রাপ্তি স্বীকারপত্রসহ রেজিষ্ট্রি ডাকযোগে যথোচিতভাবে প্রেরিত হইয়াছিল সেক্ষেত্রে নোটিস প্রেরণের তারিখ হইতে ত্রিশদিন অতিবাহিত হইলে পর প্রাপ্ত স্বীকারপত্রটি  হারাইলে বিপথে চালিত হইলে বা অন্যবিধ যেকোন কারণে উক্ত সময় মধ্যে আদালত ফেরত না আসিলেও উহা যথোচিতভাবে জারি হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে৷

(৫) ১ নং  উপধারার খ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রেরিত সমন জারি খরচ দেওয়ানী কার্যবিধি আইনে এইরূপ সমনের জারি খরচের সমান হইবে ও ১নং উপধারার গ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রেরিত নোটিসের জন্য ডাক খরচ আরজি দাখিলকালে বাদী কর্তৃক প্রদত্ত হইবে৷

 সমন এবং নোটিস জারির উপায়: ইহা দুইভাবে জারি করা যাইবে:

(ক) বিবাদীর উপর ব্যক্তিগতভাবে সমন জারি এবং (খ) ডাকযোগে পত্র প্রেরণ করিয়া নোটিস জারি৷

(ক) বিবাদীর উপর ব্যক্তিগতভাবে সমন জারি : ব্যক্তিগতভাবে সমন জারির পদ্ধতি দেওয়ানী কার্যবিধি আইনের ৫নং আদেশের ৯-১৯ নিয়মে বর্ণিত আছে ৷ বিবাদী আদালতের এখতিয়ারভুক্ত এলাকার মধ্যে বসবাস করিলে অথবা বিবাদী পক্ষে উক্ত এলাকায় সমন গ্রহণ করিবার মত ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন প্রতিনিধি থাকিলে আদালতের পদাতিক বাদীর খরচে তাহার উপর সমন জারি করিতে হইবে ৷ শুধু তাহাই নহে, একাধিক বিবাদী থাকিলে প্রত্যেকের উপর সমন জারি করিতে হইবে৷ সংশ্লিষ্ট মামলার বিবাদীকে না পাওয়া গেলেও তাহার পক্ষে সমন গ্রহণের মত ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন প্রতিনিধি না থাকিলে বিবাদীর সহিত বসবাসকারী এক পরিবারভুক্ত যেকোন সাবালক পুরুষ ব্যক্তির উপর বিবাদীর পক্ষে সমন জারি করা যাইতে পারে ৷ স্মরণ রাখা কর্তব্য যে, পরিবারের কোন ভৃত্যকে পরিবারের লোক হিসাবে  গণ্য করা যাইবে না ৷

সমন জারিকারক সমন প্রদান করিবার সময় সমনের প্রাপ্তিস্বীকার স্বরূপ মূল সমনের উপর বিবাদীর বা তাহার প্রতিনিধির স্বাক্ষর গ্রহণ করিবেন ৷ উক্তরূপ স্বাক্ষর দিতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করিলে অথবা বিবাদীর বাসস্থানে উপস্থিত হইয়া সকল চেষ্টা সত্ত্বেও বিবাদীকে না পাওয়া গেলে অথবা যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যে তাহার ফিরিবার সম্ভাবনা না থাকিলেও তাহার পক্ষে সমন গ্রহণের কোন ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির সহিত ও সাক্ষাত্‍ না পাওয়া গেলে, জারিকারক যে গৃহে বিবাদী সাধারণতঃ বসবাস করে অথবা ব্যবসা করে সেই গৃহের বহির্দ্বারে অথবা গৃহের অন্য কোন প্রকাশ্য অংশে সমন লটকাইয়া জারি করিতে পারেন ৷ এইক্ষেত্রে যেই ব্যক্তি উক্ত গৃহ শনাক্ত করিয়াছে ও যাহাদের উপস্থিতিতে এইরূপভাবে সমন জারি করা হইয়াছে তাহাদের নাম ও ঠিকানা মূল সমনের পৃষ্ঠে লিখিত হইবে এবং সম্ভব হইলে তাহাদের স্বাক্ষর মূল সমনের পৃষ্ঠে গ্রহণ করিতে হইবে ৷ তত্‍পর জারিকারক এফিডেফিট সম্বলিত বিবৃতিসহ উহা আদালতে ফেরত দিতে হইবে৷

(খ) ডাকযোগে পত্র প্রেরণ করিয়া নোটিস জারি: ডাকযোগে সমন জারির পদ্ধতি দেওয়ানী কার্যবিধি আইনের ৫নং আদেশের ৫নং আদেশের ৫নং আদেশের ২১-৩০ নিয়মে বর্ণিত আছে৷ বিবাদী কারাগারে আটক থাকিলে কারাগারের কর্মচারীর মাধ্যমে অথবা ডাকযোগে সমন জারি করা যাইতে পারে৷ কোন বিবাদী বাংলাদেশের বাহিরে বসবাস করিলে এবং দেশে তাহার কোন ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি না থাকিলে তাহার বিদেশস্থিত ঠিকানায় ডাকযোগে সমন প্রেরণ করা যাইতে পারে৷

বিবাদী কোন সৈনিক, বৈমানিক বা নাবিক হইলে আদালত ঐ সমন এবং ইহার একটি নকল বিবাদীকে প্রদান করিবার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট ডাকযোগে পাঠাইবেন৷ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উহা বিবাদীর উপর জারি করিয়া ও সম্ভব হইলে বিবাদীর লিখিত প্রাপ্তিস্বীকারসহ ঐ সমন জারিকারক আদালতে পাঠাইবেন৷ বিবাদী কোন সরকারী কর্মচারী, রেল কর্মচারী, অথবা স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী, হইলে সমন ও ইহার একটি নকল বিবাদীর উপর জারি করার অনুরোধপত্রসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট অথবা অফিস প্রধানের নিকট ডাকযোগে পাঠাইবেন৷ উক্ত কর্তৃপক্ষ বা অফিস প্রধান উক্তরূপে উহা জারি করিয়া উহা আদালতে ফেরত পাঠাইবেন৷

ধারা:

৮৷ লিখিত জবাব:

(১) বিবাদীর হাজিরার নিমিত্ত নির্ধারিত তারিখে বাদী এবং বিবাদী পারিবারিক আদালতে হাজির হইবেন ও বিবাদী আত্মপক্ষ সমর্থনে লিখিত জবাব উপস্থাপন করিবেন৷

তবে শর্ত থাকে যে, বিবাদী প্রার্থনা করিলে এবং উপযুক্ত কারণ প্রদর্শন করিলে আদালত অনধিক ২১ দিন পর জবাব দেওয়ার জন্য অন্য একটি তারিখ ধার্য্ করিতে পারেন৷

(২) লিখিত জবাবে উক্ত আত্মরক্ষার সমর্থনে হাজির করা হইবে এমন সাক্ষীগণের নাম এবং ঠিকানাসমূহ লিখিত জবাবের অন্তর্ভুক্ত থাকিবে৷

শর্ত থাকে যে, বিবাদী আদালতের অনুমতিক্রমে পরবর্তী যেকোন স্তরে যেকোন সাক্ষী ডাকিতে পারেন; যদি ন্যায়বিচারের স্বার্থে আদালত উক্তরূপ সাক্ষ্যগ্রহণ সমীচীন মনে করেন ৷

(৩) বিবাদী তাহার লিখিত জবাবের সমর্থনে সাক্ষ্য হিসাবে তাহার দখলাধীন অথবা আয়ত্তাধীন কোন দলিলের উপর নির্ভর করিলে তিনি লিখিত জবাব উপস্থাপনকালে আদালতে পেশ করিবেন এবং একই সময় উক্ত দলিল অথবা উহার অবিকল বা ফটোস্ট্যাট প্রতিলিপি লিখিত জবাবের সহিত নথিভুক্তির জন্য একটি লিস্টভুক্ত করিবেন৷

(৪) যেক্ষেত্রে বিবাদী তাহার লিখিত জবাবের সমর্থনে সাক্ষ্য হিসাবে তাহার স্বীয় দখলাধীনে অথবা আয়ত্তাধীনে নাই এমন কোন দলিলের উপর নির্ভর করেন সেক্ষেত্রে তিনি উক্ত দলিলের বিষয়টি লিখিত জবাবের সহিত সংযোজন করণার্থে একটি তালিকাভুক্ত করতঃ দলিলটি কাহার দখলে অথবা আয়ত্তাধীনে রহিয়াছে তাহা বর্ণনা করিবেন৷

(৫) মামলায় যতজন বাদী রহিয়াছে তফসিলসহ লিখিত জবাবের ততগুলো অবিকল নকল তত্সহ ৩ ও ৪ নং উপধারায় বর্ণিত দলিলের ফিরিস্তির ততগুলো অবিকল নকল লিখিত জবাবের সহিত থাকিবে৷

 (৬) ৫ নং উপধারায় বর্ণিত তফসিলসহ লিখিত জবাব, দলিলসমূহ এবং দলিলসমূহের তালিকায় নকল আদালতে উপস্থিত বাদীকে অথবা তাহার প্রতিনিধি অথবা এডভোকেটকে প্রদান করিতে হইবে৷

 যেক্ষের(৭) যেক্ষেত্রে জবাব উপস্থাপনের সময় বিবাদী আদালতে কোন দলিল দাখিল করা উচিত অথবা উহা জবাবের সহিত সংযুক্ত করিবার জন্য কোন লিস্টভুক্ত করা উচিত এবং যদি উহা উক্তরূপে দাখিল বা ল
Acquire the knowledge and share the knowledge so that knowing,learning then sharing - all are the collection

bbasujon

  • Administrator
  • VIP Member
  • *****
  • Posts: 1827
  • I want to show my performance at any where
    • View Profile
    • Higher Education
পারিবারিক আদালত বিধিমালা, ১৯৮৫

------------------------------------------------------------------

 

১৯৮৫ সালের পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশের ২৬ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার নিম্নলিখিত বিধিমালা প্রণয়ন করিলেন; যথাঃ

 

বিধি -১ (সংক্ষিপ্ত শিরোনাম )

এই বিধিমালা 'পারিবারিক আদালত বিধিমালা, ১৯৮৫' নামে অভিহিত হইবে ।

 

বিধি-২ ( সংজ্ঞাসমূহ )

অত্র বিধিমালা বিষয়ে অথবা প্রসঙ্গে বিপরীত কিছু না থাকিলে-

(ক) 'ফরম' বলিতে অত্র বিধিমালার সঙ্গে সংযুক্ত ফরমকে বুঝাইবে ।

(খ) 'অধ্যাদেশ' বলিতে পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ (১৯৮৫ সনের ১৮নং আইন)-কে বুঝাইবে ।

 

বিধি -৩ (মামলার রেজিস্ট্রি বই)

কোনো আপিল জেলা জজের আদালতে দায়ের করা হইলে উহার বিবরণ 'খ' ফরমে রক্ষিতব্য রেজিস্ট্রি বইতে অন্তর্ভুক্ত করিতে হইবে ।

 

বিধি-৪ (আপীলের রেজিস্ট্র বই )

কোনো আরজি পারিবারিক আদালতে দায়ের করা হইলে উহার বিবরণ খ ফরমে রক্ষতব্য রেজিস্ট্রি বইতে অন্তর্ভুক্ত করিতে হইবে ।

 

বিধি -৫ ( ডিক্রির ফরম )

অত্র অধ্যাদেশের প্রত্যেক মামলার রায় প্রদানান্ত 'গ' ফরমে ডিক্রি লিখিতে হইবে ও ভারপ্রাপ্ত জজ উহাতে দস্তখত দিতে হইবে ও ডিক্রি পারিবারিক আদালতের সীলমোহর যুক্ত হইবে ।

 

বিধি-৬ (জরিমানার রসিদের ফরম)

যেক্ষেত্রে অত্র অধ্যাদেশের ১৮ অথবা ১৯ ধারা মোতাবেক কোনো জরিমানা প্রদান করা হয় বা অত্র অধ্যাদেশের আওতায় পারিবারিক আদালত কোনো অর্থ অথবা সম্পত্তি জমা নেয় অথবা আদায় করে সেক্ষেত্রে 'ঘ' ফরমে রসিদ প্রদান করিতে হইবে এবং উহা ক্রমিক নম্বর যুক্ত হইতে হইবে ও উহার চেকমুড়ি পারিবারিক আদালতে রক্ষিত হইবে ।

 

বিধি -৭ (জরিমানা ইত্যাদির রেজিস্ট্রি বই )

পারিবারিক আদালত কতৃর্ক জমা নেওয়া অথবা আদায়কৃত এবং ব্যয়কৃত সমস্ত জরিমানা, অর্থ অথবা সম্পত্তি 'ঙ' ফরমে কোনো রেজিস্ট্রি হইতে অন্তর্ভুক্ত করিতে হইবে ।

 

বিধি -৮ (পক্ষের উপর নোটিশ )

যদি পারিবারিক আদালত কোনো পক্ষের প্রাপ্য কোনো অর্থ গ্রহণ করেন তবে পারিবারিক উহা পাওয়ার পক্ষের প্রতি নোটিশ জারি করাইবেন ও উক্ত পক্ষকে উহা গ্রহণের নিমিত্ত তাহার দরখাস্তের ৭ দিনের ভিতর উহা প্রদান করিবেন ।

 

বিধি -৯ (পারিবারিক আদালতের রেকর্ডসমূহ এবং রেজিস্ট্রি বই )

দেওয়ানী আদালতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সুপ্রীম কোর্টের বিধিসমূহ অনুযায়ী যথাবিধানকৃত সময়ের নিমিত্ত সংরক্ষণ করিতে হইবে ।

 

বিধি -১০ (রেকর্ডসমূহ ও উহা পরিদর্শন)

(১) বিরোধের কোনো পক্ষের দরখাস্তের ভিত্তিতে পারিবারিক আদালত চল্লিশ পয়সা ফী প্রদানের পর বিরোধ বিষয়ক পারিবারিক আদালতের রেকর্ডসমূহ পরিদর্শনের অনুমতি দিবেন ।

(২) মামলার কোনো পক্ষের দরখাস্তের ভিত্তিতে প্রতি একশত চল্লিশ অথবা উহার অংশবিশেষ শব্দের নিমিত্ত চল্লিশ পয়সা হারে ফী প্রদানের পর পারিবারিক আদালত উহার রায়, ডিক্রি অথবা আদেশের অথবা অপরাপর কার্যক্রমের অথবা অত্র বিধিসমূহ অনুযায়ী রক্ষিত কোনো রেজিস্ট্রি বইতে অন্তর্ভুক্তির অথবা ইহাদের কোনো অংশ বিশেষের প্রত্যায়িত প্রতিলিপি সরবরাহ করিতে হইবে ।

 

বিধি-১১ ( পারিবারিক আদালতের সীলমোহর )

(১) প্রতিটি পারিবারিক আদালতের অফিসে উক্ত আদালতের সীলমোহর রাখিতে হইবে এবং উহা আকারে বৃত্তাকারে হইবে ও পারিবারিক আদালত এবং স্থানের নাম থাকিবে ।

(২) অত্র অধ্যাদেশ অথবা বিধিমালার অধীনে দেওয়া সমস্ত সমন, আদেশ, ডিক্রি প্রতিলিপি এবং অপরাপর কাগজপত্রে পারিবারিক আদালতের সীলমোহর ব্যবহার করিতে হইবে ।

তথ্য সূত্র : জনগূরুত্বপূর্ণ  আইন
Acquire the knowledge and share the knowledge so that knowing,learning then sharing - all are the collection

bbasujon

  • Administrator
  • VIP Member
  • *****
  • Posts: 1827
  • I want to show my performance at any where
    • View Profile
    • Higher Education
মুসলিম বিবাহবিচ্ছেদ আইন, ১৯৬১

[১৯৩৯ সালের ৮নং আইন]

------------------------------------------------------------------

 

ধারা -১ (সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রয়োগযোগ্যতার সীমা )

(১) অত্র আইন মুসলিম বিবাহবিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ নামে পরিচিত হইবে ।

(২) ইহা সমস্ত বাংলাদেশে কার্যকর হইবে ।

(৩) বিবাহবিচ্ছেদ ও ডিক্রি লাভের কারণসমূহঃ মুসলিম আইন অনুসারে কোনো বিবাহিতা স্ত্রীলোক নিম্নলিখিত এক বা একাধিক কারণে তাহার বিবাহবিচ্ছেদের ডিক্রি পাওয়ার অধিকারণী হইবে ।যথাঃ

(১) চার বত্‍সরকাল পর্যন্ত স্বামী নিখোঁজ;

(২) দুই বত্সরকাল পর্যন্ত স্বামী তাহাকে ভরণপোষণ প্রদানে অবহেলা করিয়াছে বা ব্যর্থ হইয়াছে ।

 

ধারা-২ (বিবাহবিচ্ছেদের ডিক্রির কারণসমূহ )

(১) ১৯৬১ সনের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের বিধান অমান্য করিয়া স্বামী অপর কোনো স্ত্রী গ্রহণ করিয়াছে;

(২) সাত বত্সর বা ততোধিক সময়ের জন্য স্বামী কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইয়াছে;

(৩) যুক্তসঙ্গত কারণ ব্যতীত স্বামী তিন বত্সরকাল যাবত তাহার বৈবাহিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হইয়াছে;

(৪) বিবাহের সময় স্বামী পুরুষত্বহীন ছিল এবং তাহার ঐরূপ অবস্থা অব্যাহত আছে;

(৫) দুই বত্সর পর্যন্ত স্বামী অপ্রকৃতিস্থ রহিয়াছে বা কুষ্ঠরোগ অথবা মারাত্মক যৌন রোগে ভুগিতে থাকে;

(৬) বয়স ১৬ বত্সর পূর্ণ হইবার আগে তাহাকে তাহার বাবা অথবা অন্য কোনো অভিভাবক বিবাহ দিয়াছে ও বয়স ১৮ বত্সর পূর্ণ হইবার আগে সে (স্ত্রীলোক) উক্ত বিবাহ নাকচ করিয়াছে । শর্ত থাকে যে, বিবাহে যৌনমিলন ঘটে নাই ।

(৭) স্বামী-স্ত্রীর সহিত নিষ্ঠুর আচরণ করে; যেমন-

(ক) তাহাকে স্বভাবতঃই আক্রমণ করে বা নিষ্ঠুর আচরণের মাধ্যমে তাহার জীবন দুর্বিসহ করিয়া তোলে যদি ঐরূপ আচরণ শারীরিক নির্যাতন নাও হয়; বা

(খ) খারাপ চরিত্রের নারীগণের সঙ্গে থাকে অথবা ঘৃণ্য জীবনযাপন করে; বা

(গ) তাহাকে নৈতিকতাহীন জীবনযাপনে বাধ্য করিতে চেষ্টার করে; বা

(ঘ) তাহার সম্পত্তি হস্তান্তর করে বা উক্ত সম্পত্তিতে তাহার আইনসঙ্গত অধিকার প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি করে; বা

(ঙ) তাহাকে তাহার ধর্ম বিশ্বাস অথবা ধর্ম চর্চায় বাধা প্রদান করে; বা

(চ) যদি তাহার একাধিক স্ত্রী থাকে তবে কোরআনের নির্দেশ অনুযায়ী সে তাহার সহিত ন্যায়সঙ্গতভাবে ব্যবহার না করে;

(৮) মুসলিম আইন অনুযায়ী বিবাহবিচ্ছেদের নিমিত্ত বৈধ বলিয়া স্বীকৃত অপর কোন কারণে শর্ত থাকে যে-

(ক) কারাদণ্ডাদেশ চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত ৩নং উপধারায় বর্ণিত কারণে ডিক্রি দেওয়া হইবে না;

(খ) ১নং উপধারায় বর্ণিত কারণে উহার তারিখ হইতে ছয় মাস কাল পর্যন্ত কার্যকর হইবে না; এবং স্বামী যদি উক্ত সময় মধ্যে ব্যক্তিগতভাবে বা কোনো ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে উপস্থিত হইয়া আদালতকে সন্তোষজনক উত্তর দেয় যে সে দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত আছে তবে আদালত উক্ত ডিক্রি নাকচ করিবেন;

(গ) ৫নং উপধারায় বর্ণিত কারণে ডিক্রি দেওয়ার আগে আদালত স্বামীর আবেদনক্রমে তাহাকে আদেশ প্রদান করিতে পারেন যে, অত্র আদেশের তারিখ হইতে ১ বত্সরকালের মধ্যে সে আদালতের নিকট সন্তোষজনকভাবে প্রমাণ করিতে হইবে যে, সে পুরুষত্বহীনতা হইতে আরোগ্য লাভ করিয়াছে; এবং যদি স্বামী উক্ত সময় মধ্যে ঐরূপে আদালতকে সন্তুষ্ট করিতে পারে তবে উক্ত কারণে কোনো ডিক্রি দেওয়া হইবে না ।

 

ধারা-৩ (নিরুদ্দেশ স্বামীর উত্তরাধিকারদের উপর নোটিশ প্রদান )

২নং ধারার ১নং উপধারার প্রযোজ্য মামলায়-

(ক) আরজি দাখিল করিবার তারিখে স্বামীর যদি মৃত্যু ঘটিত তবে মুসলিম আইন অনুসারে যাহারা তাহার উত্তরাধিকারী হইতে তাহাদের নাম, ঠিকানা আরজিতে লিপিবদ্ধ করিতে হইবে;

(খ) ঐরূপ ব্যক্তিগণের উপর মামলার নোটিশ জারি করিতে হইবে; এবং

(গ) উক্ত মামলার শুনানিতে তাহাদের বক্তব্য পেশ করিবার অধিকার থাকিবে;

শর্ত থাকে যে, যদি স্বামীর কোনো চাচা এবং ভাই থাকে তবে সে অথবা তাহারা উত্তরাধিকারী না হইলেও মামলায় পক্ষভুক্ত হইবে ।

 

ধারা -৪ ( অন্য ধর্ম গ্রহণের পরিণতি )

বিবাহিতা মুসলিম মহিলা ইসলাম ধর্ম পরিত্যাগ অথবা উক্ত ধর্ম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্ম গ্রহণ করিলে সেইজন্য তাহার বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে না ।

শর্ত থাকে যে, ঐরূপ ধর্ম ত্যাগ অথবা অন্য ধর্ম গ্রহণ করিবার পর উক্ত নারী ২ ধারায় উল্লেখিত যেকোন কারণে বিবাহবিচ্ছেদের ডিক্রি পাওয়ার অধিকারিণী হইবে ।

আরও শর্ত থাকে যে, কোনো বিধর্মী মহিলা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করিবার পর পুনরায় তাহার পূর্বে ধর্মে ফিরিয়া আসিলে অত্র ধারার বিধানসমূহ তাহার প্রতি প্রযোজ্য হইবে না ।

 

ধারা-৫ ( দেনমোহরের অধিকার খর্ব করিবে না )

অত্র আইনে বর্ণিত কোনো কিছু মুসলিম আইন অনুসারে বিবাহিতা কোনো মহিলার প্রাপ্য দেনমোহর অথবা উহার কোনো অংশের অধিকার তাহার বিবাহবিচ্ছেদ কতৃর্ক প্রভাবিত হইবে না ।

 

ধারা-৬ (১৯৩৭ সালের ১৬নং আইনের ৫ ধারা বাতিল )

১৯৩৭ সালের মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরীয়ত) প্রয়োগ আইনের ৫ ধারা বাতিল ।

 

তথ্য সূত্র : জনগূরুত্বপূর্ণ  আইন
Acquire the knowledge and share the knowledge so that knowing,learning then sharing - all are the collection

bbasujon

  • Administrator
  • VIP Member
  • *****
  • Posts: 1827
  • I want to show my performance at any where
    • View Profile
    • Higher Education
মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিষ্ট্রীকরণ)

আইন, ১ঌ৭৪

(১ঌ৭৪ সনের ৫২ নম্বর অধ্যইন)

 

 [ মুসলিম বিবাহ ও তালাক রেজিষ্ট্রীকরণ সম্পর্কিত আইন একীকরণ ও সংশোধন করিবার জন্য আইন ]

 

যেহেতু মুসলিম বিবাহ ও তালাক রেজিষ্ট্রীকরণ সম্পর্কিত আইন একীকরণ ও সংশোধন করা সমীচীন;

সেহেতু উহা এতদ্বারা নিম্নরূপ বিধিবদ্ধ করা হইলঃ

 

১। সংক্ষিপ্ত শিরোণাম ও প্রয়োগ :

    (১) এই আইন মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিষ্ট্রীকরণ) আইন, ১ঌ৭৪ বলিয়া অভিহিত করা যাইতে পারে।

    (২) বাংলাদেশের সকল মুসলিম নাগরিকদের উপর যেখানেই তাহারা থাকুক না কেন, ইহা প্রযোজ্য হইবে।

২। সংজ্ঞা সমূহ : এই আইনে যদি বিষয়ে বা প্রসঙ্গে পরিপন্থী কোন কিছু না থাকে তাহা হইলেঃ-

    (ক) মহা-নিবন্ধন পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর জেনারেল অব রেজিষ্ট্রশন) ও নিবন্ধক (রেজিষ্টার) বলিতে যথাক্রমে ১ঌ০৮ সনের রেজিষ্ট্রীকরণ আইনের (১৯০৮ সনের ১৬) অধীনে ঐরূপ পদনামযুক্ত ও নিযুক্ত অফিসারদেরকে বুঝায়।

    (খ) নির্ধারিত বলিতে এই আইনের অধীনে প্রণীত বিধিমালা দ্বারা নির্ধারিত বুঝায়।

৩। বিবাহ রেজিষ্ট্রীকরণ : অন্য যে কোন আইন, প্রথা বা রীতিতে  যে কোন কিছু থাকা সত্ত্বেও মুসলিম আইন অনুযায়ী অনুষ্ঠিত প্রত্যেক বিবাহ এই আইনের বিধানাবলী অনুযায়ী রেজিষ্ট্রী করতে হবে।

 

৪। নিকাহ নিবন্ধক : এই আইনের অধীন বিবাহসমূহ রেজিষ্ট্রীকরণের উদ্দেশ্যে সরকার যেরূপ বিধিনির্দিষ্ট করিতে পারেন সেরূপ এলাকার জন্য যেরূপ প্রয়োজনীয় গণ্য করিতে পারে সেরূপ সংখ্যক নিকাহ নিবন্ধক বলিয়া অভিহিত ব্যক্তিকে অনুজ্ঞাপত্র মঞ্জুর করিবেন।
 

তবে শর্ত থাকে যে অনধিক একজন নিকাহ নিবন্ধক যে কোন একটি এলাকার জন্য অনুজ্ঞাপ্রাপ্ত হইবে।
 

৫। নিকাহ নিবন্ধকগণ কর্তৃক অনানুষ্ঠিত বিবাহ সম্পর্কে তাহাদের নিকট প্রতিবেদন করিতে হইবে :

    (১) নিকাহ নিবন্ধক কর্তৃক অনানুষ্ঠিত প্রত্যেক বিবাহ এই আইনের অধীনে রেজিষ্ট্রীকরণের উদ্দেশ্যে তাহার নিকট এইরূপ বিবাহ অনুষ্ঠিত করিয়াছেন এমন ব্যক্তি কর্তৃক প্রতিবেদন পেশ করিতে হইবে।

    (২) যে কেহ (১) উপ-ধারার বিধান লংঘন করিলে সে তিন মাস পর্যন্ত বর্ধনযোগ্য মেয়াদের বিনাশ্রম কারাবাসে বা পাঁচশত টাকা পর্যন্ত বর্ধনযোগ্য জরিমানায় বা উভয়বিধে শাস্তিযোগ্য হইবেন।

৬। তালাক রেজিষ্ট্রীকরণ :

    (১) কোন নিকাহ নিবন্ধক এখতিয়ারের মধ্যে মুসলিম আইন অনুযায়ী কার্যকরীকৃত তালাক রেজিষ্ট্রীকরণের জন্য তাহার নিকট পেশকৃত আবেদন পত্রের ভিত্তিতে উহা রেজিষ্ট্রী করিতে পারেন।

    (২) তালাক রেজিষ্ট্রিকরণের জন্য আবেদন তালাক কার্যকরী করিয়াছেন এমন ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ কর্তৃক মৌখিকভাবে পেশকৃত হইবে ।

     

    তবে শর্ত থাকে যে, যদি মহিলা পর্দানশীল হন তাহা হইলে ঐরূপ আবেদন তাহার যথাযথভাবে কর্তৃত্বপ্রাপ্ত উকিল কর্তৃক পেশ করা যাইতে পারে।

     

    (৩) ১ঌ০৮ সনের রেজিষ্ট্রীকরণ আইনের (১৯০৮ সনের ১৬) অধীনে রেজিষ্ট্রীকৃত যে দলিলমুলে স্বামী স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা অর্পণ করিয়াছিল উক্ত দলিল অথবা ঐরূপ অর্পন করা হইয়াছে বলিয়া বিবাহ রেজিষ্ট্রী খাতায় অন্তভুক্তির সত্যায়িত প্রতিলিপি দাখিলকরণের ভিত্তিতে ব্যতীত নিকাহ নিবন্ধক তালাক-ই-তৌফিজ হিসাবে পরিচিত ধরনের কোন তালাক রেজিষ্ট্রী করিবেন না।

    (৪) যেক্ষেত্রে নিকাহ নিবন্ধক কোন তালাক রেজিষ্ট্রী করিতে অস্বীকার করেন, সেক্ষেত্রে ঐরূপ রেজিষ্ট্রীকরণের জন্য আবেদন করিয়াছিল এমন ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ উক্ত অস্বীকৃতির ত্রিশ দিনের মধ্যে নিবন্ধকের নিকট আপীল পেশ করিতে পারেন এবং উক্ত আপীলের উপর নিবন্ধক কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ চূড়ান্ত (বলিয়া গণ্য) হইবে।

৭। রেজিষ্ট্রীকরণের পদ্ধতি : নিকাহ নিবন্ধক  নির্ধারিত পদ্ধতিতে কোন বিবাহ বা তালাক রেজিষ্ট্রী করিবেন।

 

৮। রেজিষ্ট্রী খাতা : প্রত্যেক নিকাহ নিবন্ধক নির্ধারিত ফরমে বিবাহ ও তালাকের পৃথক রেজিষ্ট্রী খাতা রাখিবেন এবং ঐরূপ প্রত্যেক রেজিষ্ট্রী খাতায় প্রত্যেক বত্সরের শুরুতে নতুন সারির সূচনা ক্রমে সকল ভুক্তি ক্রমিক সারিতে সংখ্যাযুক্ত (করিতে) হইবে।
 

৯। পক্ষগণকে ভুক্তির প্রতিলিপি দিতে হইবে : কোন বিবাহ বা তালাকের রেজিষ্ট্রীকরণ সম্পূর্ন হওয়ার পর নিকাহ নিবন্ধক সংশ্লিষ্ট পক্ষগণকে খাতায় ভুক্তির সত্যায়িত প্রতিলিপি অর্পণ করিবেন এবং ঐরূপ প্রতিলিপির জন্য কোন খরচ আদায় করা হইবে না।
 

১০। নিয়ন্ত্রন ও তত্ত্বাবধান  :

    (১) প্রত্যেক নিকাহ নিবন্ধক তাহার অফিসের কর্তব্যাবলী নিবন্ধকের অধীক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের অধীনে পালন করিবেন।

    (২) মহা-নিবন্ধন পরিদর্শক সকল নিকাহ নিবন্ধকগণের অফিসের উপর সাধারণ অধীক্ষণ চালাইবেন।

১১। অনুজ্ঞাপত্রের সংহরণ ও নিলম্বন : যদি সরকার বিশ্বাস করেন যে, নিকাহ নিবন্ধক তাহার কর্তব্যাবলী পালনে কোন অসদাচনের জন্য দোষী অথবা তাহার কর্তব্যাবলী পালনে অনুপযুক্ত বা দৈহিকভাবে অক্ষম, তাহা হইলে সরকার লিখিত আদেশবলে তাহার অনুজ্ঞাপত্র সংহরণ করিতে পারেন, অথবা আদেশের যেরূপ বিনির্দিষ্ট করা হইতে পারে সেরূপ অনধিক দুই বত্সর মেয়াদের জন্য তাহার অনুজ্ঞাপত্র নিলম্বিত করিতে পারেন।

     তবে শর্ত থাকে যে, ঐরূপ কোন আদেশ প্রদান করা হইবে না যদি নিকাহ নিবন্ধককে কেন ঐরূপ আদেশ প্রদান করা হইবে না উহার কারণ প্রদর্শনের যুক্তিসঙ্গত সুযোগ প্রদান করা হয়।
 

১২। রেজিষ্ট্রী খাতাসমূহের হেফাজত : প্রত্যেক নিকাহ নিবন্ধক ৮ ধারা অনুযায়ী তত্কর্তৃক রক্ষিত প্রত্যেকটি রেজিষ্ট্রী খাতা নিরাপদে রাখিবেন যতক্ষণ না উহা সম্পূর্ণ হয় এবং তিনি সংশ্লিষ্ট জিলা ত্যাগ করিলে বা অনুজ্ঞাপত্র ধারণ করা বন্ধ করিলে তখনই বা তত্পূর্বে নিরাপদ হেফাজতের জন্য নিবন্ধকের নিকট উহা হস্তান্তর করিবেন।
 

১৩। রেজিষ্ট্রী খাতাসমূহ পরিদর্শন : যে কোন ব্যক্তি নির্ধারিত ফি, যদি থাকে, প্রদানক্রমে নিকাহ নিবন্ধকের বা নিবন্ধকের অফিসে সেখানে রক্ষিত যে কোন রেজিষ্ট্রী খাতা পরিদর্শন করিতে পারেন অথবা উহাতে কোন ভুক্তির প্রতিলিপি পাইতে পারেন।
 

১৪। বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা :

    (১) সরকার অফিসিয়াল গেজেটে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই আইনের উদ্দেশ্যাবলী কার্যকরী করিবার জন্য বিধি প্রণয়ন করিতে পারেন।

    (২) বিশেষ করিয়া এবং পূর্ববর্তী ক্ষমতার সাধারণত্বের হানি না করিয়া উক্ত বিধিমালা-

        (ক) যে ব্যক্তিদেরকে ৪ ধারার অধীনে অনুজ্ঞাপত্র মঞ্জুর করা যাইতে পারে তা যাদের জন্য আবশ্যক যোগ্যতা সম্পর্কে,

        (খ) বিবাহ বা তালাক রেজিষ্ট্রীকরণের জন্য নিকাহ নিবন্ধককে প্রদেয় কি সম্পর্কে,

        (গ) বিধি প্রণয়ন আবশ্যক এমন অন্য যে কোন বিষয় সম্পর্কে বিধান করিতে পারে।

১৫। ১ঌ৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের (১ঌ৬১ সনের ৮অর্ডিন্যান্স) সংশোধন :
১৯৬১ সনের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের,

    (ক) ৩ ধারার (১) উপ-ধারায় কমা ও শব্দাবলী এবং মুসলিম বিবাহ রেজিষ্ট্রীকরণ শুধুমাত্র ঐ সকল বিধানাবলী অনুযায়ী সংঘটিত হইবে বাদ যাইবে।

    (খ) ৫ ধারা বাদ যাইবে।

    (গ) ৬ ধারার (১) উপ-ধারায় এই আইনের অধীন শব্দসমূহের পরিবর্তে ১ঌ৭৪ সালের মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিষ্ট্রীকরণ) আইনের (১ঌ৭৪ সনের ৫২ নম্বর আইন) অধীন শব্দসমূহ, কমা, অংক ও বন্ধকী বসিবে।

১৬। নিরসন :
১৮৭৬ সনের মুসলিম তালাক রেজিষ্ট্রীকরণ আইনের (১৮৭৬ সনের ১ নং বেঙ্গল আইন) এতদ্বারা নিরসন করা হইল।

 

১৭। বিদ্যমান নিকাহ নিবন্ধকগণ সম্পর্কিত বিধান :
এই আইনের প্রারম্ভের পূর্বে ১৯৬১ সনের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের (১৯৬১ সনের ৮) অধীনে অনুজ্ঞাপ্রাপ্ত সকল নিকাহ নিবন্ধকগণ এই আইনের অধীনে নিকাহ নিবন্ধক হিসাবে অনুজ্ঞাপ্রাপ্ত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
Acquire the knowledge and share the knowledge so that knowing,learning then sharing - all are the collection

bbasujon

  • Administrator
  • VIP Member
  • *****
  • Posts: 1827
  • I want to show my performance at any where
    • View Profile
    • Higher Education
সিলম বিবাহ আইন

(১৯৩৯ সালের ৮নং আইন)

[ ১৯৩৯ সালের ১৭ই মার্চ তারিখে গভর্ণর-জেনারেলের সম্মতিপ্রাপ্ত ]

    [ মুসলিম আইন অনুযায়ী বিবাহিতা মহিলার বিবাহ বিচ্ছেদের উপর আণীত মামলা সম্পর্কিত মুসলিম আইনের বিভিন্ন ব্যবস্থাবলীর একত্রীকরণ ও পরিস্কার ব্যাখ্যার জন্য এবং বিবাহিতা মুসলমান মহিলার ইসলাম ধর্ম পরিত্যাগের ফলে তাহার বিবাহ সম্পর্কের ক্ষেত্রে সৃষ্ট সন্দেহ দূরীকরণার্থে প্রণীত এাক্ট ]।

    যেহেতু, মুসলিম আইন অনুযায়ী বিবাহিতা মহিলার বিবাহ বিচ্ছেদের উপর আনীত মামলা সম্পর্কিত মুসলিম আইনের বিভিন্ন ব্যবস্থা একত্রীকরণ ও উহাদের পরিস্কার ব্যাখ্যার জন্য এবং বিবাহিতা মুসলমান মহিলার ইসলাম ধর্ম পরিত্যাগের ফলে তাহার বিবাহ সম্পর্কের ক্ষেত্রেও সৃষ্ট সন্দেহ দূরীকরণার্থে, এক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুভব করা যাইতেছে, সেইহেতু এতদ্বারা নিম্নলিখিত আইন পাশ করা হইতেছে :   

    ১।  (ক) সংক্ষিপ্ত শিরোনামঃ অত্র আইনকে ১৯৩৯ সালের মুসলমান বিবাহ বিচ্ছেদ আইন নামে অভিহিত করা যাইতে পারে।

           (খ) ইহা সমগ্র বাংলাদেশে প্রযোজ্য হইবে।

    ২। বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রির হেতুবাদঃ নিম্নলিখিত যে কোন এক বা একাধিক হেতুবাদে মুসলিম আইন অনুযায়ী বিবাহিতা কোন মহিলা তাহার বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য ডিক্রি লাভের অধিকারিণী হইবেন, যথাঃ

        i) চার বত্‍সর যাবত্‍ স্বামী নিরুদ্দেশ হইলে;

        ii) স্বামী দুই বত্‍সর যাবত্‍ স্ত্রীর ভরণ-পোষণ দানে অবহেলা প্রদর্শন করিলে অথবা ব্যর্থ হইলে;

        ii-ক) স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ব্যবস্থা লঙ্খন করিরা অতিরিক্ত স্ত্রী গ্রহণ করলে;

        iii) স্বামী সাত বত্‍সর বা তদুর্ধ্ব সময়ের জন্য কারাদন্ডে দন্ডিত হইলে;

        iv) স্বামী কোন যুক্তসঙ্গত কারণ ব্যতীত তিন বত্‍সর যাবত্‍ তাহার দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হইলে;

        v) বিবাহকালে স্বামীর পুরুষত্বহীনতা থাকিলে এবং উহা বর্তমানেও চলিতে থাকলে;

        vi) দুই বত্‍সর যাবত্‍ স্বামী পাগল হইয়া থাকিলে অথবা কুষ্ঠ ব্যাধিতে কিংবা ভয়ানক ধরণের উপদংশ রোগে ভুগিতে থাকলে;

       vii) আঠার বত্‍সর পূর্ণ হওয়ার পূর্বে তাহাকে তাহার পিতা অথবা অন্য অভিভাবক বিবাহ করাইয়া থাকিলে এবং উণিশ বত্‍সর বয়স পূর্ণ হইবার পূর্বেই সে উক্ত বিবাহ অস্বীকার করিয়া থাকিলে; তবে, অবশ্য ঐ সময়ের মধ্যে যদি দাম্পত্য মিলন অনুষ্ঠিত না হইয়া থাকে;

       viii) স্বামী তাহার (স্ত্রীর) সহিত নিষ্ঠুর আচরণ করিলে, অর্থাত্‍   

        ক) অভ্যাসগতভাবে তাহাকে আঘাত করিলে বা নিষ্ঠুর আচরণ দ্বারা, উক্ত আচরণ দৈহিক পীড়নের পর্যায়ে না পড়িলও, তাহার জীবন শোচনীয় করিয়া তুলিয়াছে এমন হইলে;.

        খ) স্বামীর দূর্নাম রহিয়াছে বা কলঙ্কিত জীবন যাপন করে এমন স্ত্রীলোকদের সহিত মেলামেশা করিলে, অথবা

        গ) তাহাকে দূর্ণীত জীবন যাপনে বাধ্য করিবার চেষ্টা করিলে, অথবা

        ঘ) তাহার সম্পত্তি হস্তান্তর করিলে অথবা উহার উপর তাহার বৈধ অধিকার প্রয়োগে বাধা প্রদান করিলে, অথবা

        ঙ) তাহার ধর্মীয় কর্তব্য পালনে বাধা সৃষ্টি করিলে, অথবা

        চ) একাধিক স্ত্রী থাকিলে, সে কোরানের নির্দেশ অনুযায়ী ন্যায়পরায়নতার সহিত তাহার সঙ্গে আচরণ না করিলে;

        ix) মুসলিম আইন অনুযায়ী বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য বৈধ হেতু হিসাবে স্বীকৃত অন্য যে কোন কারণেঃ

        তবে অবশ্য-

        ক) কারাদন্ডাদেশ চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত ৩ নং হেতু বাদে কোন ডিক্রি প্রদান করা যাইবে না,

        খ) ১ নং হেতুবাদে প্রদত্ত ডিক্রিটি উহার প্রদানের তারিখ হইতে ৬ মাস পর্যন্ত কার্যকরী হইবে না এবং স্বামী উক্ত সময়ের মধ্যে স্বয়ং অথবা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কো এজেন্টের মাধ্যমে উপস্থিত হইয়া এই মর্মে যদি আদালতকে খুশী করিতে পারে যে, দাম্পত্য কর্তব্য পালনে প্রস্তুত রহিয়াছে, তাহা হইলে আদালত ডিক্রিটি রদ করিবেন; এবং

        গ) ৫ নং হেতুবাদে ডিক্রি প্রদানের পূর্বে, স্বামীর আবেদনক্রমে আদালতের আদেশের এক বত্‍সরের মধ্যে যে পুরুষত্বহীনতা হইতে মুক্তি লাভ করিয়াছে বা তাহার পুরুষত্বহীনতার অবসান ঘটিয়াছে এই মর্মে আদালতকে সন্তুষ্ট করিবার জন্য আদালত তাহাকে আদেশ দান করিতে পারেন এবং যদি সে উক্ত সময়ের মধ্যে আদালতকে এই মর্মে সন্তুষ্ট করিতে পারে, তাহা হইলে উক্ত হেতুবাদে কোন ডিক্রি প্রদান করা যাইবে না।   

    ৩। স্বামীর ঠিকানা জানা না থাকিলে তাহার উত্তরাধিকারীগণের উপর নোটিশ জারী করিতে হইবে

    যে মামলায় ২ ধারায় (১) উপ-ধারা প্রযোজ্য, সেখানে-

    ক) আর্জিতে ঐ সমস্ত লোকের নাম-ঠিকানা লিখিতে হইবে যাহারা আর্জি পেশ করিবার সময় স্বামী মারা গেলে মুসলিম আইনে স্বামীর উত্তরাধিকারী হইতেন;

    খ) ঐ ধরণের ব্যক্তিগণের উপর নোটিশ জারী করিতে হইবে, এবং

    গ) উক্ত মামলায় ঐ সকল ব্যক্তির বক্তব্য পেশ করিবার অধিকার থাকিবে।

    তবে অবশ্য ম্বামীর চাচা ও ভাই থাকিলে উহারা উত্তরাধিকারী না হইলেও উহাদিগকে অবশ্যই পক্ষভূক্ত করিতে হইবে।

    ৪। ধর্মান্তরের ফলঃ

কোন বিবাহিতা মুসলমান মহিলা ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করিলে অথবা ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্মে দীক্ষা গ্রহন করিলে উহাতেই তাহা বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটিবে না।

    তবে, অবশ্য এই জাতীয় ধর্ম ত্যাগ বা অন্য ধর্ম গ্রহণের পর মহিলাটি ২ ধারায় বর্ণিত অন্য কোন হেতুবাদে তাহার বিবাহ বিচ্ছিদের জন্য ডিক্রি গ্রহণের অধিকারিণী হইবেনঃ

    আরও এই যে, অত্র ধারার ব্যবস্থাবলী ঐ মহিলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না, যে কোন ধর্ম হইতে মুসলিম ধর্মে ধর্মান্তরিত হইয়াছিল এবং বর্তমানে স্বীয় পুরাতন ধর্মে পুনরায় দীক্ষা গ্রহণ করিল।

    ৫। দেহমোহরের অধিকার ক্ষুন্ন হইবে নাঃ

অত্র আইনে সন্নিবেশিত কোন কিছুই কোন বিবাহিতা মহিলার বিবাহ বিচ্ছেদের ফলে মুসলিম আইন অনুযায়ী তাহার প্রাপ্ত দেনমোহর অথবা উহার কোন অংশের উপর তাহার কোন অধিকারকেই ক্ষুন্ন করিবে না।

    ৬। ১৯৩৭ সালের মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) প্রয়োগ আইনের ৫ ধারাটিকে এতদ্বারা বাতিল ঘোষণা করা হইল [ ১৯৪২ সালের ২৫ নং এ্যাক্ট দ্বারা বাতিল ঘোষিত হয় ]
Acquire the knowledge and share the knowledge so that knowing,learning then sharing - all are the collection

bbasujon

  • Administrator
  • VIP Member
  • *****
  • Posts: 1827
  • I want to show my performance at any where
    • View Profile
    • Higher Education
অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন, ১৮ঌ০

The Guardians and Wards Act, 1890

(১৮ঌ০ সনের ৮নং আইন)

 

অভিভাবক এবং প্রতিপাল্য সম্পর্কিত আইন একীকরণ ও সংশোধন করার আইন। যেহেতু অভিভাবক এবং প্রতিপাল্য সম্পর্কিত আইন একীকরণ ও সংশোধন করা সমীচীন; সেহেতু উহা এতদ্বারা নিম্নরূপ বিধিবদ্ধ করা হল।

 

 ১ম অধ্যায়

প্রারম্ভিক

 

ধারা-১। শিরোনাম, আওতা ও প্রারম্ভ :

         (১) এই আইনকে অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন, ১৮৯০ নামে অভিহিত করা যেতে পারে,

           (২) ইহা সমগ্র বাংলাদেশে প্রযোজ্য, এবং

           (৩) ১৮৯০ সনের ১ জুলাই হতে ইহা কার্যকর হবে।

ধারা-২। ১৯৩৮ সনের ১নং আইন দ্বারা বাতিল করা হয়েছে।

ধারা-৩। ১৯৭৩ সনের ৮নং আইনের ২ ধারা দ্বারা বাদ দেয়া হয়েছে।

ধারা-৪। সংজ্ঞা :

এই আইনের বিষয়ে বা প্রসঙ্গে পরিপন্থী কিছু না থাকলে-

(১)  "নাবালক" বলতে ১৮৭৫ সালের (১৮৭৫ সনের ৯নং আইন) সাবালকত্ব মর্ম মতে যে এখনো সাবালকত্ব লাভ করে নাই তাকে বুঝায়।

(২) "অভিভাবক" বলতে যে ব্যক্তি কোন নাবালকের শরীর অথবা সম্পত্তি অথবা সম্পত্তি ও শরীর উভয়ের তত্ত্বাবধানে নিযুক্ত তাকে বুঝায়।

(৩) "প্রতিপাল্য" বা "ওয়ার্ড" বলতে একজন নাবালক যার শরীর বা সম্পত্তি অথবা শরীর এবং সম্পত্তির জন্য একজন অভিভাবক আছে তাকে বুঝায়।

(৪) জেলা আদালত বলতে দেওয়ানী কার্যবিধিতে (১৯০৮ সনের ৫নং আইন) যে অর্থ বুঝান হয়েছে তা বুঝায় এবং হাইকোর্ট ডিভিশনের সাধারণ মূল দেওয়ানী অধিক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত করে;

 (৫) "আদালত"  বলতে-

(ক) এই আইনে কোন ব্যক্তিকে অভিভাবক নিযুক্ত অথবা ঘোষণা করার জন্য দরখাস্ত গ্রহণ করার বৈধ কর্তৃত্বসম্পন্ন জেলা আদালতকে বুঝায়, অথবা

(খ) যেখানে এরূপ কোন দরখাস্তের পরিপ্রেক্ষিতে অভিভাবক নিয়োগ বা ঘোষণা করা হয়েছে-

      (i) আদালত অথবা ঐ কর্মকর্তার আদালত যিনি অভিভাবক নিয়োগ অথবা ঘোষণা করেছেন অথবা এই আইনে অভিভাবক নিয়োগ বা ঘোষণা করেছেন বলে মনে করা হয়, অথবা

            (ii) নাবালকের শরীর সম্বন্ধে যেকোন ব্যাপারে নাবালক কিছু সময়ের জন্য সাধারণত যেখানে বসবাস করে সে এলাকার জেলা আদালত, অথবা

     (গ) ৪ক ধারায় বদলিকৃত কোন মামলা ঐ কর্মকর্তার আদালতে যার নিকট উক্ত মামলা বদলি উক্ত মামলা বদলি করা হয়েছে।

  (৬) "কালেক্টর" বলতে কোন জেলার রাজস্ব প্রশাসনের প্রধান কর্মকর্তাকে বুঝায় এবং সরকার গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে নামে বা পদ মর্যাদার বলে কাকে কোন স্থানীয় এলাকার জন্য বা এই আইনের সকল বা কোন উদ্দেশ্যে কোন শ্রেণীর লোকের জন্য কালেক্টর নিযুক্ত করলে তাও অন্তর্ভুক্ত করবে;

   (৭)  ১৯৭৩ সনের ৮নং আইনের ৩ ধারা, ২য় তফশিল দ্বারা বাদ দেয়া হয়েছে

   (৮) "নির্ধারিত" বলতে মহামান্য সুপ্রীম কোর্ট কর্তৃক নির্ধারিত কোন বিধিকে বুঝায়।

 

ধারা-৪ক। অধ:স্তন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার উপর কর্তৃত্ব আরোপ করার এবং মামলা বদলি করার ক্ষমতা :

(১)         হাইকোর্ট ডিভিশন সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা মূল দেওয়ানী কর্তৃত্ব প্রয়োগ করে জেলা আদালতের অধ:স্তন এমন কোন কর্মকর্তাকে বা কোন জেলা আদালতের জজকে তার অধ:স্তন কোন কর্মকর্তাকে তার নিকট বদলিকৃত যেকোন মামলা এই ধারা অনুসারে নিষ্পত্তি করবার জন্য ক্ষমতা অর্পণ করতে পারেন।

(২)         কোন জেলা আদালতের জজ লিখিত আদেশ দ্বারা নিষ্পত্তির জন্য তাঁর আদালতে অপেক্ষমান এই আইনের যেকোন মামলা (১) উপ-ধারার ক্ষমতাপ্রাপ্ত তার অধ:স্তন যেকোন আদালতে বদলি করতে পারেন।

(৩)         কোন জেলা আদালতের জজ (১) উপ-ধারায় ক্ষমতাপ্রাপ্ত তার অধ:স্তন যে কোন আদালতে বা এমন ধরনের অন্য কোন অধ:স্তন কর্মকর্তার আদালতে অপেক্ষমান এই আইনের কোন মামলা তার নিজ আদালতে বা এমন ধরনের অন্য কোন অধ:স্তন কর্মকর্তার আদালতে বদলি করতে পারেন।

(৪)   অভিভাবক নিযুক্ত বা ঘোষিত হয়েছে এমন ধরনের এই আইনের কোন মামলা বদলি করা হলে জেলা আদালতের জজ লিখিত আদেশ দ্বারা ঘোষণা করতে পারেন যে, সেখানে এমন ধরনের মামলা বদলি হয়েছে তেমন জজের আদালত বা অফিসকে এই আইনের কোন বা সব উদ্দেশ্য অভিভাবক নিয়োগ বা ঘোষিত হওয়ার আদালত মনে করা হবে।

 

২য় অধ্যায়

অভিভাবক নিয়োগ ও ঘোষণা

 

ধারা-৫। ১৯৭৩ সনের ৮নং আইন, ৩ ধারা ও ২য় তফশিল দ্বারা বাদ দেয়া হয়েছে।

 

ধারা-৬। অন্যক্ষেত্রে নিয়োগ ক্ষমতার ব্যতিক্রম:

 

এই ধারার কোন কিছু দ্বারাই কোন নাবালকের শরীর বা সম্পত্তির অভিভাবক নিয়োগের ক্ষমতা যা আইনে বৈধ তা নিয়ে যাওয়া বা কমিয়ে দেয়া ব্যাখ্যা করা যাবে না।

 

ধারা-৭। অভিভাবকত্বের ব্যাপারে আদেশ প্রদানে আদালতের ক্ষমতা:

 (১) যেখানে আদালত এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে নাবালকের মঙ্গলের জন্য আদেশ প্রদান করা প্রয়োজন-

 

        (ক) তার শরীর অথবা সম্পত্তি অথবা উভয়ের ব্যাপারে একজন অভিভাবক নিযুক্ত করে, অথবা

        (খ) কোন ব্যক্তিকে তেমন অভিভাবক ঘোষণা করে আদালত তদানুসারে আদেশ প্রদান করতে পারেন;

তবে শর্ত এই যে নাবালক বাংলাদেশের নাগরিক হলে বাংলাদেশী নাগরিক ছাড়া অন্য কাকেও তার অভিভাবক নিযুক্ত করা যাবে না।

(২) উইল বা অন্য কোন দলিল দ্বারা নিযুক্ত না হলে অথবা কর্তৃক ঘোষিত না হলে এই ধারাবলে কোন আদেশ কোন অভিভাবকের অপসারণ বুঝাবে।

(৩) যেক্ষেত্রে কোন অভিভাবক উইল বা অন্য দলিল দ্বারা অথবা আদালত কর্তৃক নিযুক্ত বা ঘোষিত হয়েছে সেক্ষেত্রে এ ধারায় অন্য কোন ব্যক্তিকে তার পরিবর্তে অভিভাবক নিযুক্ত বা ঘোষণা করা যাবে না যে পর্যন্ত না উক্তভাবে নিযুক্ত বা ঘোষিথ অভিভাবক এই আইন অনুসারে দায়িত্ব পালন বন্ধ করেছে।

 

ধারা-৮। আদেশ পাওয়ার জন্য আবেদন করতে যারা স্বত্ববান:

 শেষোক্ত ধারাগুলির অধীনে নিম্নোক্ত ব্যক্তিবর্গের দরখাস্ত ছাড়া কোন আদেশ দেয়া হবে না-

 

                    (ক) যে ব্যক্তি অভিভাবক হতে ইচ্ছুক বা অভিভাবক হবার দায়ী করে, অথবা

                    (খ) নাবালকের কোন আত্নীয় বা বন্ধু, অথবা

               (গ) জেলা কালেক্টর বা অন্য স্থানীয় এলাকার যেখানে নাবালক সাধারণত বসবাস করে অথবা যেখানে তার সম্পত্তি আছে, অথবা

                    (ঘ) নাবালক যেই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত সেই শ্রেণীর উপর কর্তৃত্ব আছে এমন কালেক্টর।

       

       ধারা-৯। দরখাস্ত গ্রহণ করায় আদালতের এখতিয়ার :

(১) যদি দরখাস্ত নাবালকের বা প্রতিপাল্যের শরীরের  অভিভাবকত্বের ব্যাপারে হয় তা হলে নাবালক সাধারণত যেখানে বসবাস করে সে এলাকার জেলা আদালতে তা দাখিল করতে হবে।

(২) যদি দরখাস্ত নাবালকের বা প্রতিপাল্যের সম্পত্তির অভিভাবকত্বের ব্যাপারে হয় সে ক্ষেত্রে উহা এক হয় নাবালক যেখানে সাধারণত বসবাস করে বা যেখানে তার সম্পত্তি আছে সেই এলাকার জেলা আদালতে দাখিল করতে হবে।

(৩) নাবালকের বা প্রতিপাল্যের সম্পত্তির অভিভাবকত্বের ব্যাপারে নাবালক যেখানে সাধারণত বাস করে সে এলাকার জেলা আদালত ছাড়া অন্য আদালতে দরখাস্ত করলে, উক্ত আদালত এখতিয়ার সম্বলিত অন্য জেলা আদালত কর্তৃক উক্ত দরখাস্ত আরো ন্যায়ত ও সুবিধাজনকভাবে নিষ্পত্তি হবে বিবেচনা করলে উক্ত দরখাস্ত ফেরত দিতে পারবেন।

 

ধারা-১০। দরখাস্তের ধরন:

 (১) যদি কালেক্টর দরখাস্ত না দেন তা হলে দেওয়ানী কার্যবিধিতে (১৯৮০ সনের ৫নং আইন) আরজি দরখাস্ত ও প্রতিপাদনের জন্য নির্ধারিত নিয়মে ঐ দরখাস্তেও স্বাক্ষর ও প্রতিপাদন হতে এবং যতদূর পর্যন্ত নির্ণয় করা যায়-

 

                 (ক) নাবালকের নাম, লিঙ্গ, জণ্ম তারিখ এবং তাহার সাধারণ বাসস্থান;

                 (খ) নাবালক স্ত্রীলোক হলে সে বিবাহিতা কিনা এবং সেক্ষেত্রে তার স্বামীর নাম এবং বয়স;

     (গ) নাবালকের সম্পত্তির রকম, অবস্থান এবং আনুমানিক মূল্য, যদি থাকে;

     (ঘ) নাবালকের শরীর বা সম্পত্তির জিম্মাদার বা দখলকারের নাম এবং বাসস্থান;

     (ঙ) নাবালকের নিকট আত্নীয় কারা এবং তাদের বাসস্থান;

     (চ) নাবালকের শরীর বা সম্পত্তির বা উভয়ের অভিভাবক নিয়োগ দানে স্বত্বাধিকারী বা আইনগত নিযুক্তি দিতে অধিকারী বলে দাবীকারী কর্তৃক নিযুক্ত হয়েছে কি না;

     (ছ) নাবালকের শরীর বা সম্পত্তির বা উভয়ের অভিভাবকত্বের জন্য কোন সময়ে কোন আদালতে দরখাস্ত করা হয়েছিল কিনা এবং সেক্ষেত্রে কোন আদালতে এবং কি ফলাফল;

     (জ) দরখাস্ত নাবালকের শরীর বা সম্পত্তি বা উভয়ের অভিভাবক নিয়েগ বা ঘোষণার জন্য কি না;

     (ঝ) নাবালকের শরীর বা সম্পত্তির বা উভয়ের জন্য অভিভাবক নিযুক্তি বা ঘোষণার জন্য আবেদন কি না;

     (ঞ) অভিভাবকের নিযুক্তির আবেদন হলে প্রস্তাবিত অভিভাবকের যোগ্যতাসমূহ;

      (ট) কোন ব্যক্তিকে অভিভাবক ঘোষণার দরখাস্ত হলে উক্ত ব্যক্তির দাবীর ভিত্তিসমূহ;

      (ঠ) দরখাস্ত করার কারণসমূহ; এবং

      (ড) অন্যান্য বিবরণ যদি নির্ধারিত থেকে থাকে অথবা দরখাস্তের প্রকৃতির জন্য প্রয়োজন হয়, তা বর্ণনা করবেন।

(২) কালেক্টর কর্তৃক উক্ত দরখাস্ত করা হলে চিঠির আকারে আদালতে প্রেরণ করতে হবে এবং ডাক বা সুবিধাজনক মনে করা তেমন কোন উপায়ে পাঠাতে হবে এবং দরখাস্তে (১) উপধারায় বর্ণিত বিবরণগুলি যতদূর সম্ভব দিতে হবে।

(৩) দরখাস্তে প্রস্তাবিত অভিভাবকের কাজ করার ইচ্ছামুক্ত ঘোষণা থাকতে হবে এবং ঐ ঘোষণা তার স্বাক্ষরিত হতে হবে এবং দু'জন স্বাক্ষী দ্বারা সত্যায়িত হতে হবে।

 

ধারা-১১। দরখাস্ত গ্রহণের পর পদ্ধতি:

 (১) যদি আদালত এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে দরখাস্তটি নিয়ে অগ্রসর হওয়ার যথে কারণ আছে তা হলে উহা শুনানির জন্য একটি দিন ঠিক করবেন এবং দরখাস্ত ও শুনানির তারিখের নোটিশ দিবেন-

            (ক) দেওয়ানী কার্যবিধিতে নির্দেশিত মতে নিম্নোক্ত ব্যক্তিদের উপর জারি করাতে হবে।

                (১) নাবালকের মাতাপিতা যদি তারা বাংলাদেশ বাস করে;

               (২) নাবালকের শরীর বা সম্পত্তি জিম্মাদার বা দখলদার হিসাবে দরখাস্তে বা পত্রে কারো নাম উল্লেখ করা হয়ে থাকলে;

             (৩) উক্ত ব্যক্তি নিজে দরখাস্তকারী হয়ে থাকলে দরখাস্ত বা পত্রে যাকে অভিভাবক নিযুক্ত বা ঘোষণা করার প্রস্তাব করা হয়েছে; এবং

 

(খ) আদালতের কোন সুপ্রকাশ্য স্থানে এবং নাবালকের বাসস্থানে নোটিশ টাঙ্গাতে হবে এবং এই আইন অনুসারে সুপ্রীম কোর্টের কোন বিধি সাপেক্ষে আদালত যেভাবে উপযুক্ত মনে করে সেভাবে প্রচার করতে হবে।

(২) ১০ ধারার (১) উপধারা অনুযায়ী দরখাস্তে উল্লিখিত কোর্ট অব ওয়ার্ডস তত্ত্বাবধান গ্রহণ করতে পারে এই মর্মে সরকার সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দিতে পারে আদালত ও যে কালেক্টরের এলাকায় সাধারণত বসবাস করে এবং সব কালেক্টরের উপর যাদের জেলায় সম্পত্তির অংশবিশেষ অবস্থিত তাদের উপর উপরোল্লিখিত উপায়ে নোটিশ জারি করবেন, কালেক্টরও যেভাবে উপযুক্ত মনে করেন সেভাবে নোটিশ জারি করতে পারবেন।

(৩) (২) উপ-ধারা অনুযায়ী কোন নোটিশ জারির জন্য বা প্রচারের জন্য আদালত বা কালেক্টর কোন খরচ ধার্য করবেন না।

 

ধারা-১২। নাবালকের উপস্থাপনের জন্য এবং সম্পত্তি বা শরীরের মধ্যকালীন সংরক্ষণের জন্য অর্ন্তবর্তীকালীন আদেশ প্রদানের ক্ষমতা:

(১) প্রতিপাল্য বা নাবালককে কোন নির্দিষ্ট স্থানে নির্দিষ্ট সময়ে আদালতে নিযুক্ত ব্যক্তির সম্মুখে উপস্থিত করা বা করানোর জন্য তার জিম্মাদার কেহ থেকে থাকলে আদালত তাকে নির্দেশ দিতে পারবেন এবং নাবালকের শরীর বা সম্পত্তির অস্থায়ী জিম্মা সংরক্ষণের জন্য উপযুক্ত বিবেচনা করলে আদেশ দিতে পারবেন।

(২) যদি নাবালক "মেয়ে" হয় যাকে জনসম্মুখে উপস্থিত করান উচিত নয় সেক্ষেত্রে দেশের প্রচলিত প্রথা ও রীতিনীতি অনুসারে তাকে উপস্থিত করবার জন্য (১) উপধারা মোতাবেক আদেশ প্রদান করতে হবে।

(৩) এই ধারার কোন কিছুই ক্ষমতা প্রদান করবে না-

        (ক) স্বামী হওয়ার কারণে অভিভাবক হিসাবে দাবী করে এমন ব্যক্তির জিম্মায় কোন নাবালক মেয়েকে দেয়া যাবে না যদি না ইতোপূর্বেই তার পিতামাতার (যদি থেকে থাকে) সম্মতিতে সে তার জিম্মায় থেকে থাকে; অথবা

        (খ) কোন নাবালকের অস্থায়ী জিম্মাদার এবং সম্পত্তির সংরক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি আইন অধীনে ছাড়া অন্যভাবে কোন সম্পত্তির দখলদারকে বেদখল করবার।

 

ধারা-১৩। আদেশের পূর্বে সাক্ষ্য গ্রহণ:

দরখাস্ত শুনানীর দিন অথবা যথাশীঘ্র সম্ভব তত্পরে দরখাস্তের পক্ষে বিপক্ষে দেয়া সাক্ষ্যসমূহ আদালত শুনবেন।

 

ধারা -১৪। বিভিন্ন আদালতে যুগপত কার্যাবলী (প্রসিডিং):

 (১) অভিভাবক নিয়োগ বা ঘোষণার মামলা একাধিক আদালতে চলতে থাকলে প্রত্যেক আদালত অন্য আদালত বা আদালত সমূহের মামলার ব্যাপারে অবগত হওয়ার পর নিজ আদালতের মামলা স্থগিত রাখবেন।

(২) এরূপ উভয় বা সকল আদালত একই হাইকোর্ট ডিভিশনের অধস্তন হলে প্রত্যেক আদালত উক্ত মামলার ব্যাপারে হাইকোর্ট ডিভিশনের প্রতিবেদন দাখিল করবে এবং হাইকোর্ট ডিভিশন নাবালকের অভিভাবক নিয়োগ বা ঘোষণা সম্পর্কে উক্ত মামলা কোন আদালতে চলবে তা সিদ্ধান্ত নিবেন।

(৩) (১) উপধারা মোতাবেক স্থগিত মামলার ব্যাপারে আদালতগুলি সরকারের নিকট প্রতিবেদন দিবেন এবং এ ব্যাপারে স্ব স্ব সরকারের প্রদত্ত আদেশ অনুসারে পরিচালিত হবেন।

 

ধারা-১৫। বহু অভিভাবক নিযুক্তি বা ঘোষণা:

(১) নাবালক যে আইনের অধীন  উক্ত  আইন যদি তার শরীর, সম্পত্তি অথবা উভয়ের জন্য দুই বা ততোধিক যুগ্ন অভিভাবক অনুমোদন করে আদালত উপযুক্ত মনে করলে তাদেরকে অভিভাবক নিয়োগ বা ঘোষণা করতে পারেন।

(২) ও (৩) উপধারা ১ঌ৭৩ সনের ৮নং আইন দ্বারা বাদ দেয়া হয়েছে।

(৪) নাবালকের শরীর ও সম্পত্তির জন্য ভিন্ন অভিভাবক নিযুক্ত বা ঘোষণা করা যায়।

(৫) নাবালকের অনেক সম্পত্তি থাকলে আদালত উপযুক্ত মনে করলে উক্ত সম্পত্তির প্রত্যেকটির বা অনেকটির জন্য ভিন্ন ভিন্ন অভিভাবক নিযুক্ত করতে পারেন।

 

ধারা-১৬। আদালতের এখতিয়ার বহির্ভূত সম্পত্তির অভিভাবক নিয়োগ বা ঘোষণা:

কোন আদালত উহার স্থানীয়  এখতিয়ার বহির্ভূত সম্পত্তির জন্য কোন অভিভাবক নিয়োগ বা ঘোষণা করলে যে আদালতের এখতিয়ারের মধ্যে   সম্পত্তি অবস্থিত উক্ত আদালত অভিভাবক নিয়োগ বা ঘোষণার জাবেদা নকল উপস্থাপনের পর উক্ত অভিভাবককে বৈধভাবে নিযুক্ত বা ঘোষিত
Acquire the knowledge and share the knowledge so that knowing,learning then sharing - all are the collection

bbasujon

  • Administrator
  • VIP Member
  • *****
  • Posts: 1827
  • I want to show my performance at any where
    • View Profile
    • Higher Education
যৌতুক নিষিদ্ধকরণ আইন, ১৯৮০
[১৯৮০ সালের ৩৫ নং আইন]

বিবাহে যৌতুক প্রদান বা গ্রহণ নিষিদ্ধ করিবার জন্য আইন।যেহেতু বিবাহে যৌতুক প্রদান বা গ্রহণ নিষিদ্ধ করিবার জন্য বিধান করা সমীচীন ; সেইহেতু এতদ্বারা নিম্নরূপ আইন প্রণয়ন করা হইল :

 ১। সংক্ষিপ্ত শিরোনামা ও প্রারম্ভ (Short title and commencement) :

    (১) এই আইনকে যৌতুক নিষিদ্ধকরণ আইন, ১৯৮০ নামে অভিহিত করা হইল।

    (২) সরকার অফিসিয়াল গেজেটে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে যে তারিখ নির্দিষ্ট করিবেন সেই তারিখেই ইহা বলবত হইবে।

 ২। সংজ্ঞা (Definition) : এই আইন বিষয়ে বা প্রসঙ্গে প্রতিকূল কোন কিছু না থাকিলে যৌতুক বলিতে -

    (ক) বিবাহে একপক্ষ কর্তৃক অপর পক্ষকে ; অথবা

    (খ) বিবাহে কোন এক পক্ষের পিতা মাতা কর্তৃক বা অন্য যে কোন ব্যক্তি কর্তৃক অপর পক্ষকে বা অপর কোন ব্যক্তিকে, বিবাহকালে বা বিবাহের পূর্বে বা পরে যেকোন কালে উক্ত পক্ষগণের বিবাহে পণ হিসেবে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রদত্ত বা প্রদান করিতে সম্মত যে কোন সম্পত্তি বা মূল্যবান জামানতকে বুঝায়, তবে যে সকল ব্যক্তির ক্ষেত্রে মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) প্রযোজ্য সে সকল ব্যক্তির দেনমোহর বা মোহর অন্তর্ভূক্ত করে না।

    ব্যাখ্যা-১। সন্দেহ নিরসনের জন্য এতদ্বারা ঘোষণা করা হইলো যে, কোন বিবাহের সময় বিবাহের কোন পক্ষকে বিবাহের পক্ষ নয় এমন যেকোন ব্যক্তি কর্তৃক অনধিক পাঁচশত টাকা মূল্যের দ্রব্য সামগ্রীর আকারে প্রদত্ত কোন উপহার এই ধারার অর্থানুসারে যৌতুক বলিয়া গণ্য হইবে না, যদি তাহা উক্ত পক্ষের বিবাহের পণ হিসেবে প্রদত্ত না হয়।

    ব্যাখ্যা -২। মূল্যবান জামানত অভিব্যক্তিটি দন্ডবিধির (১৮৬০ সালের ৪৫ নং আইন) ৩০ ধারায় যে অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে সেই একই অর্থ বহন করে।

৩। যৌতুক প্রদান বা গ্রহণের জন্য দন্ড (Penalty for giving or taking dowry) :

এই আইনের কার্যকারিতা আরম্ভ হওয়ার পর যদি কোন ব্যক্তি যৌতুক প্রদান বা গ্রহণ করে অথবা প্রদান বা গ্রহণে প্ররোচনা দেয়, তাহা হইলে সে কারাদন্ডে পাঁচ বত্সর পর্যন্ত হইতে পারে এবং এক বত্সরের কম নহে কারাদন্ডে বা জরিমানায় কিংবা উভয়বিধ দন্ডে দন্ডিত হইবে।

৪। যৌতুক দাবি করিবার জন্য দন্ড (Penalty for giving or taking dowry) :

এই আইনের কার্যকারিতা আরম্ভ হইবার পর যদি কোন ব্যক্তি ক্ষেত্রমতে বর বা কনের পিতামাতা বা অভিভাবকের নিকট হইতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোন যৌতুক দাবি করে, তাহা হইলে সে পাঁচ বত্সর মেয়াদ পর্যন্ত বর্ধনযোগ্য এবং এক বত্সর মেয়াদের কম নহে, কারাদন্ডে বা জরিমানায় বা উভয়বিধ দন্ডে দন্ডিত হইবে।

৫। যৌতুক প্রদান বা গ্রহণের চুক্তি বাতিল গণ্য হইবে (Agreement for giving or taking dowry to be void) : যৌতুক প্রদান বা গ্রহণের যেকোন চুক্তিপত্র বাতিল বলিয়া গণ্য হইবে।

৬। স্ত্রী বা তাহার উত্তরাধিকারীগণের উপকারার্থে যৌতুক :

(এই ধারাটি ১ঌ৮৪ সনের ৬৪ নং অধ্যাদেশ দ্বারা বাদ দেওয়া হইয়াছে।)

৭। অপরাধ আমলে লওয়া (Cognizance of offences) :

১৮ঌ৮ সনের ফৌজদারী কার্যবিধিতে (১৮ঌ৮ সনের ৫ নং আইন) যেকোন কিছু থাকা সত্ত্বেও-

    (ক) প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেটের অধঃস্তন কোন আদালতই এই আইনের অধীন কোন অপরাধের বিচার করিবেন না ;

    (খ) কোন আদালতই উক্ত অপরাধের তারিখ হইতে এক বত্সরের মধ্যে অভিযোগ আনয়ন করা ব্যতীত কোন অপরাধ আমলে আনিবেন না;

    (গ) এই আইনের অধীন কোন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত কোন ব্যক্তিকে এই আইন দ্বারা অনুমোদিত যেকোন দন্ড প্রদান করা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেটের জন্য আইনসম্মত হইবে।

 ৮। অপরাধ আমল অযোগ্য, জামিন অযোগ্য এবং আপোসযোগ্য বলিয়া গণ্য হইবে (Offences to be non-cognizable, non-bailable and compoundable) :

এই আইনের অধীন প্রতিটি অপরাধ আমল অযোগ্য, জামিন অযোগ্য এবং আপোসযোগ্য বলিয়া গণ্য হইবে।

৯। বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা (Power to make Rules) :

    (১) সরকার অফিসিয়াল গেজেটে বিজ্ঞপ্তি মাধ্যমে এই আইনের উদ্দেশ্যাবলী সাধনে বিধিমালা প্রণয়ন করিতে পারেন।
    (২) এই ধারার অধীনে প্রণীত প্রত্যেক বিধি ইহা প্রণীত হওয়ার পর যত্ন তাড়াতাড়ি সম্ভব সংসদে উপস্থাপন করিতে হইবে এবং যে অধিবেশনে উহা উপস্থাপিত হইল সে অধিবেশন শেষ হওয়ার পূর্বেই যদি সংসদ উহাতে কোন পরিবর্তন আনিতে সম্মত হয় বা এই মর্মে সম্মত হয় যে বিধি প্রণয়ন করা হইবে না, তাহা হইলে  বিধি তদনুযায়ী ক্ষেত্রমতে শুধুমাত্র সেই পরিবর্তিত আকারে কার্যকর হইবে অথবা আদৌ কার্যকর হইবে না, এই সাপেক্ষে যে, উপরোক্ত যেকোন পরিবর্তন বা নাকচকরণ উক্ত বিধির অধীনে ইতিপূর্বে করা কোন কিছুর সিদ্ধতার হানি করিবে না।
Acquire the knowledge and share the knowledge so that knowing,learning then sharing - all are the collection

bbasujon

  • Administrator
  • VIP Member
  • *****
  • Posts: 1827
  • I want to show my performance at any where
    • View Profile
    • Higher Education
নারী ও শিশু নির্যাতনমূলক অপরাধসমূহ কঠোরভাবে দমনের উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন।
 

যেহেতু নারী ও শিশু নির্যাতনমূলক অপরাধসমূহ কঠোরভাবে দমনের উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় বিধান প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয় ; যেহেতু এতদদ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল :

 

ধারা-১। সংক্ষিপ্ত শিরোনামা :

 

এই আইন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ নামে অভিহিত হইবে।


ধারা-২। সংজ্ঞা :

 

বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে -

    (ক) " অপরাধ " অর্থ এই আইনের অধীন শাস্তিযোগ্য কোন অপরাধ;

    (খ) " অপহরণ " অর্থ এই বলপ্রয়োগ বা প্রলুব্ধ করিয়া বা ফুসলাইয়া বা ভুল বুঝাইয়া বা ভীতি প্রদর্শন করিয়া কোন স্থান হইতে কোন ব্যক্তিকে অন্যত্র যাইতে বাধ্য করা ;

    (গ) " আটক " অর্থ কোন ব্যক্তিকে তাহার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোন স্থানে আটকাইয়া রাখা ;

    (ঘ) " ট্রাইব্যুনাল " অর্থ এই আইনের অধীন গঠিত কোন ট্রাইবু্যনাল ;

    (ঙ) " ধর্ষণ " অর্থ ধারা ৯-এর বিধান সাপেক্ষে, Penal Code, 1860 (Act XLV of 1860) এর Section 375-  এ সংজ্ঞায়িত rape ;

    (চ) " নবজাতক " শিশু অর্থ অনূর্ধ চল্লিশ দিন বয়সের কোন শিশু;

    (ছ) " নারী " অর্থ যে কোন বয়সের নারী ;

    (জ) " মুক্তিপণ " অর্থ আর্থিক সুবিধা বা অন্য যে কোন প্রকারের সুবিধা ;

    (ঝ) " ফৌজদারী কার্যবিধি " অর্থ Code of Criminal Procedure, 1898 (Act V of 1898) ;

    (ঞ) " যৌতুক " অর্থ কোন বিবাহের কনে পক্ষ কর্তৃক বিবাহের বর বা বরের পিতা বা মাতা বর পক্ষের অন্য কোন ব্যক্তিকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে উক্ত বিবাহের সময় বা তত্পূর্ব বা বৈবাহিক সম্পর্ক বিদ্যমান থাকাকালে, বিবাহ স্থির থাকার শর্তে, বা বিবাহের পণ হিসাবে, প্রদত্ত অথবা প্রদানে সম্মত অর্থ, সামগ্রী বা অন্যবিধ সম্পদ, এবং উক্ত শর্ত বা পণ হিসাবে বর বা বরের পিতা, মাতা বা বর পক্ষের অন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক কনে বা কনে পক্ষের কোন ব্যক্তির নিকট দাবিকৃত অর্থ, সামগ্রী বা অন্যবিধ সম্পদ ;

              [ এখানে ২০০৩ সালে কিছু সংশোধন আনা হয়েছে ]

     

    (ট) " শিশু " অর্থ অনধিক চৌদ্দ বয়সের কোন ব্যক্তি;

     

              [ এখানে ২০০৩ সালে কিছু সংশোধন আনা হয়েছে ]

     (ঠ) " হাইকোর্ট " বিভাগ অর্থ বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্ট-এর হাইকোর্ট বিভাগ।

ধারা-৩। আইনের প্রাধান্য :

 

আপাতত বলবত্‍ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলী কার্যকর থাকিবে।

 

ধারা-৪। দহনকারী, ইত্যাদি পদার্থ দ্বারা সংঘটিত অপরাধের শাস্তি:

    (১) যদি কোন ব্যক্তি দহনকারী, ক্ষয়কারী অথবা বিষাক্ত পদার্থ দ্বারা কোন শিশু বা নারীর মৃত্যু ঘটানো বা মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টা করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদন্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অনূর্ধ্ব এক লক্ষ টাকা অর্থদন্ডেও দন্ডনীয় হইবেন।

    (২) যদি কোন ব্যক্তি দহনকারী, ক্ষয়কারী বা বিষাক্ত পদার্থ দ্বারা কোন শিশু বা নারীকে এমনভাবে অাহত করেন যাহার ফলে উক্ত শিশু বা নারীর দৃষ্টিশক্তি বা শ্রবণশক্তি নষ্ট হয় বা শরীরের কোন অঙ্গ, গ্রন্থি বা অংশ বিকৃত বা নষ্ট হয় বা তাহার শরীরের অন্য কোন স্থান আহত হয়, তাহা হইলে উক্ত শিশুর বা নারীর-

            (ক) দৃষ্টিশক্তি বা শ্রবণশক্তি , নষ্ট বা মুখমনন্ডল, স্তন বা যৌনাঙ্গ বিকৃত বা নষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদন্ডে যা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অনূর্ধ্ব এক লক্ষ টাকার অর্থদন্ডেও দন্ডনীয় হইবেন ;
            (খ) শরীরের অন্য কোন অঙ্গ, গ্রন্থি বা অংশ বিকৃত বা নষ্ট হওয়ার বা শরীরের কোন স্থানে আঘাত পাওয়ার ক্ষেত্রে, উক্ত ব্যক্তি অনধিক চৌদ্দ বত্সর কিন্তু অন্যূন সাত বত্সরের সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অনূর্ধ্ব পঞ্চাশ হাজার টাকার অর্থদন্ডেও দন্ডনীয় হইবেন।

    (৩) যদি কোন ব্যক্তি কোন দহনকারী, ক্ষয়কারী অথবা বিষাক্ত পদার্থ কোন শিশু বা নারীর উপর নিক্ষেপ করেন বা করার চেষ্টা করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি, তাহার উক্তরূপ কার্যের দরুন সংশ্লিষ্ট শিশু বা নারীর শারীরিক, মানসিক বা অন্য কোনভাবে কোন ক্ষতি না হইলেও, অনধিক সাত বত্সর কিন্তু অন্যুন তিন বত্সরের সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অনূর্ধ্ব পঞ্চাশ হাজার টাকার অর্থদন্ডেও দন্ডনীয় হইবেন।

    (৪) এই ধারার অধীন অর্থদন্ডের অর্থ প্রচলিত আইনের বিধান অনুযায়ী দন্ডিত ব্যক্তির নিকট হইতে বা তাহার বিদ্যমান সম্পদ বা তাহার মৃত্যুর ক্ষেত্রে মৃত্যুর সময় রাখিয়া যাওয়া সম্পদ হইতে আদায় করিয়া অপরাধের দরুন যে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটিয়াছে তাহার উত্তরাধিকারীকে বা ক্ষেত্রমত, যেই ব্যক্তি শারীরিক বা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হইয়াছেন, সেই ব্যক্তিকে বা সেই ব্যক্তির মৃত্যুর ক্ষেত্রে, তাহার উত্তরাধিকারীকে প্রদান করা হইবে।

  ধারা-৫। নারী পাচার, ইত্যাদির শাস্তি :

    (১) যদি কোন ব্যক্তি পতিতাবৃত্তি বা বেআইনী বা নীতিবিগর্হিত কোন কাজে নিয়োজিত করার উদ্দেশ্যে কোন নারীকে বিদেশ হইতে আনয়ন করেন বা বিদেশে পাচার বা প্রেরণ করেন অথবা ক্রয় বা বিক্রয় করেন বা কোন নারীকে ভাড়ায় বা অন্য কোনভাবে নির্যাতনের উদ্দেশ্যে হস্তান্তর করেন, বা অনুরূপ কোন উদ্দেশ্যে কোন নারীকে তাহার দখলে, জিম্মায় বা হেফাজতে রাখেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদন্ডে বা যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদন্ডেও দন্ডনীয় হইবেন।

    (২) যদি কোন নারীকে কোন পতিতার নিকট বা পতিতালয়ের রক্ষণাবেক্ষণকারী বা ব্যবস্থাপকের নিকট বিক্রয়, ভাড়া বা অন্য কোনভাবে হস্তান্তর করা হয়, তাহা হইলে যে ব্যক্তি উক্ত নারীকে অনুরূপভাবে হস্তান্তর করিয়াছেন তিনি, ভিন্নরূপ প্রমাণিত না হইলে, উক্ত নারীকে পতিতাবৃত্তিতে নিয়োজিত করার উদ্দেশ্যে বিক্রয় বা হস্তান্তর করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং তিনি উপ-ধারা (১) -এ উল্লিখিত দন্ডে দন্ডনীয় হইবেন।

    (৩) যদি কোন পতিতালয়ের রক্ষণাবেক্ষণকারী বা পতিতালয়ের ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত কোন ব্যক্তি কোন নারীকে কোন নারীকে ক্রয় বা ভাড়া করেন বা অন্য কোনভাবে কোন নারীকে দখলে নেন বা জিম্মায় রাখেন, তাহা হইলে তিনি, ভিন্নরূপ প্রমাণিত না হইলে, উক্ত নারীকে পতিতা  হিসাবে ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে ক্রয় বা ভাড়া করিয়াছেন বা দখলে বা জিম্মায় রাখিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং উপ-ধারা (১) -এ উল্লিখিত দন্ডে দন্ডনীয় হইবেন।
Acquire the knowledge and share the knowledge so that knowing,learning then sharing - all are the collection

bbasujon

  • Administrator
  • VIP Member
  • *****
  • Posts: 1827
  • I want to show my performance at any where
    • View Profile
    • Higher Education
ধারা-৬। শিশুপাচার, ইত্যাদির শাস্তি :

    (১) যদি কোন ব্যক্তি কোন বেআইনী বা নীতিবিগর্হিত উদ্দেশ্যে কোন শিশুকে বিদেশ হইতে আনয়ন করেন বা বিদেশ প্রেরণ বা পাচার করেন অথবা ক্রয় বা বিক্রয় করেন বা উক্তরূপ কোন উদ্দেশ্যে কোন শিশুকে নিজ দখলে, জিম্মায় বা হেফাজতে রাখেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদন্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদন্ডেও দন্ডনীয় হইবেন।

    (২) যদি কোন ব্যক্তি কোন নবজাতক শিশুকে হাসপাতাল, শিশু বা মাতৃসদন নার্সিং হোম, ক্লিনিক ইত্যাদি বা সংশ্লিষ্ট শিশুর অভিভাবকের হেফাজত হইতে চুরি করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি উপ-ধারা (১) -এ উল্লিখিত দন্ডে দন্ডনীয় হইবেন।

ধারা-৭। নারী ও শিশু অপহরণের শাস্তি :

 

যদি কোন ব্যক্তি ধারা ৫-এ উল্লিখিত কোন অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে ব্যতীত অন্য কোন উদ্দেশ্যে কোন নারী বা শিশুকে অপহরণ করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদন্ডে বা অন্যূন চৌদ্দ বত্সর সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদন্ডেও দন্ডনীয় হইবেন।
 

ধারা-৮। মুক্তিপণ আদায়ের শাস্তি :

 

যদি কোন ব্যক্তি মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে কোন নারী বা শিশুকে আটক করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদন্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডে হইবেন।এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদন্ডেও দন্ডনীয় হইবেন।এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদন্ডেও দন্ডনীয় হইবেন।
 

ধারা-৯। ধর্ষণ, ধর্ষণজনিত কারণে মৃত্যু, ইত্যাদির শাস্তি:

    (১) যদি কোন পুরুষ কোন নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন, তাহা হইলে তিনি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডে  দন্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদন্ডেও দন্ডনীয় হইবেন।

    (২) যদি কোন ব্যক্তি কর্তৃক ধর্ষণ বা উক্ত ধর্ষণ পরবর্তী তাহার নিষেধ কার্যকলাপের ফলে ধর্ষিতা নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদন্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অন্যূন এক লক্ষ টাকা অর্থদন্ডেও দন্ডনীয় হইবেন।

    (৩) যদি একাধিক ব্যক্তি দলবদ্ধভাবে কোন নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন এবং ধর্ষণের ফলে উক্ত নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে বা তিনি আহত হন, তাহা হইলে ঐ দলের প্রত্যেক ব্যক্তি মৃত্যুদন্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অন্যূন এক লক্ষ টাকা অর্থদন্ডেও দন্ডনীয় হইবেন।

    (৪) যদি কোন ব্যক্তি কোন নারী বা শিশুকে-

    (ক) ধর্ষণ করিয়া মৃত্যু ঘটানোর বা আহত করার চেষ্টা করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদন্ডেও দন্ডনীয় হইবেন ;

    (খ) ধর্ষণের চেষ্টা করেন, তাহা হইলে ব্যক্তি অনধিক দশ বত্‍‌সর কিন্তু অন্যূন পাঁচ বত্সর সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদন্ডেও দন্ডনীয় হইবেন।

    (৫) যদি পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন সময়ে নারী ধর্ষিতা হন, তাহা হইলে যাহাদের হেফাজতে থাকাকালীন উক্তরূপ ধর্ষণ সংঘটিত হইয়াছে, সেই ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ ধর্ষিতা নারীর হেফাজতের জন্য সরাসরিভাবে দায়ী ছিলেন, তিনি বা তাহারা প্রত্যেকে, ভিন্নরূপ প্রমাণিত না হইলে, হেফাজতের ব্যর্থতার জন্য, অনধিক দশ বত্সর কিন্তু অন্যূন পাঁচ বত্সরের সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অন্যূন দশ হাজার টাকা অর্থদন্ডেও দন্ডনীয় হইবেন।

     

     [ এই ধারাটির সাথে ২০০৩ সালে ৯ ক ধারা সংযোজিত করা হয়েছে  এবং কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে ]

ধারা-১০। যৌন পীড়ন, ইত্যাদির দন্ড :

    (১) কোন পুরুষ অবৈধভাবে তাহার যৌন কামনা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে তাহার শরীরের যে কোন অঙ্গ বা কোন বস্তু দ্বারা কোন নারী বা শিশুর যৌনাঙ্গ বা অন্য কোন অঙ্গ স্পর্শ করেন তাহা হইলে তাহার এই কাজ হইবে যৌন পীড়ণ।তজ্জন্য উক্ত পুরুষ অনধিক দশ বত্সর কিন্তু অন্যূন তিন বত্সর সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদন্ডেও দন্ডনীয় হইবেন।

     

    (২) কোন পুরুষ অবৈধভাবে তাহার যৌন কামনা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে কোন নারীর শ্লীলতাহানি করিলে বা অশোন অঙ্গভঙ্গি করিলে তাহার এ্ই কাজ হইবে যৌন পীড়ণ এবং তজ্জন্য উক্ত পুরুষ অনধিক সাত বত্সর কিন্তু অন্যূন দুই বত্সর সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদন্ডেও দন্ডনীয় হইবেন।

     

                   [ এই ধারাটি ২০০৩ সালে সংশোধন করা হয়েছে ]
Acquire the knowledge and share the knowledge so that knowing,learning then sharing - all are the collection

bbasujon

  • Administrator
  • VIP Member
  • *****
  • Posts: 1827
  • I want to show my performance at any where
    • View Profile
    • Higher Education
ধারা-১১।যৌতুকের জন্য মৃত্যু ঘটানো, ইত্যাদির শাস্তি :

    যদি কোন নারীর স্বামী অথবা স্বামীর পিতা, মাতা, অভিভাবক, আত্নীয় বা স্বামীর পক্ষে অন্য কোন ব্যক্তি যৌতুকের জন্য উক্ত নারীর মৃত্যু ঘটান বা মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টা করেন, উক্ত নারীকে আহত করেন বা আহত করার চেষ্টা করেন, তাহা হইলে উক্ত স্বামী, স্বামীর পিতা, মাতা, অভিভাবক, আত্নীয় বা ব্যক্তি
    (ক) মৃত্যু ঘটানোর জন্য মৃত্যুদন্ডে ঘটানোর চেষ্টার জন্য যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডনীয় হইবেন এবং উভয়  ক্ষেত্রে উক্ত দন্ডের অতিরিক্ত অর্থদন্ডেও দন্ডনীয় হইবেন ;

    (খ) আহত করার জন্য যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডে বা আহত করার চেষ্টা করার জন্য অনধিক চৌদ্দ বত্সর কিন্তু অন্যূন পাঁচ বত্সরের সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডনীয় হইবেন এবং উভয় ক্ষেত্রে উক্ত দন্ডের অতিরিক্ত অর্থদন্ডেও দন্ডনীয় হইবেন।

     

     [ এই ধারাটি ২০০৩ সালে সংশোধন করা হয়েছে ]

ধারা-১২। ভিক্ষাবৃত্তি, ইত্যাদির উদ্দেশ্যে শিশুকে অঙ্গহানি করার শাস্তি :

    যদি কোন ব্যক্তি ভিক্ষাবৃত্তি বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রির উদ্দেশ্যে কোন শিশুর হাত, পা, চক্ষু বা অন্য কোন অঙ্গ বিনষ্ট করেন বা অন্য কোনভাবে বিকলাঙ্গ বা বিকৃত করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদন্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদন্ডেও দন্ডনীয় হইবেন।

ধারা-১৩। ধর্ষণের ফলশ্রুতিতে জণ্মলাভকারী শিশু সংক্রান্ত বিধান :

    (১) অন্য কোন আইনে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ধর্ষনের কারণে কোন সন্তান জণ্মলাভ করিলে -

    (ক) উক্ত সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব ধর্ষণকারী পালন করিবেন ;

    (খ) উক্ত সন্তান জণ্মলাভের পর সন্তানটি কাহার তত্ত্বাবধানে থাকিবে এবং তাহার ভরণ-পোষণ বাবদ ধর্ষণকারী কি পরিমাণ খরচ তত্ত্বাবধানকারীকে প্রদান করিবে তাহা ট্রাইব্যুনাল নির্ধারণ করিয়া দিতে পারিবে ;

    (গ) উক্ত সন্তান পঙ্গু না হইলে, এই খরচ পুত্র সন্তানের ক্ষেত্রে ২১ বত্সর পর্যন্ত এবং কন্যা সন্তানের ক্ষেত্রে তাহার বিবাহ না হওয়া পর্যন্ত এবং পঙ্গু সন্তানের ক্ষেত্রে তিনি স্বীয় ভরণ-পোষণের যোগ্যতা অর্জন না করা পর্যন্ত প্রদেয় হইবে।

                        [ এই ধারাটিতে কিছু সংশোধন আনা হয়েছে ২০০৩ সালে ]                   

 

ধারা-১৪। সংবাদ মাধ্যমে নির্যাতিতা নারী ও শিশুর পরিচয় প্রকাশের ব্যাপারে বাধা-নিষেধ :

    (১) এই আইনে বর্ণিত অপরাধের শিকার হইয়াছেন এইরূপ নারী বা শিশুর ব্যাপারে সংঘটিত অপরাধ বা তত্সম্পর্কিত আইনগত কার্যধারার সংবাদ বা তথ্য বা নাম-ঠিকানা বা অন্যবিধ তথ্য কোন সংবাদপত্রে বা অন্য কোন সংবাদ মাধ্যমে এমনভাবে প্রকাশ বা পরিবেশন করা যাইবে যাহাতে উক্ত নারী বা শিশুর পরিচয় প্রকাশ না পায়।

    (২) উপ-ধারা (১)-এর বিধান লঙ্ঘনের জন্য দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের প্রত্যেকে অনধিক দুই বত্সর কারাদন্ডে বা অনূর্ধ্ব এক লক্ষ টাকা অর্থদন্ডে বা উভয় দন্ডে দন্ডনীয় হইবেন।

     

ধারা-১৫। ভবষিত্‍ সম্পত্তি হইতে অর্থদন্ড আদায় :

    এই আইনের ধারা ৪ হইতে ১৪ পর্যন্ত ধারাসমূহে উল্লিখিত অপরাধের জন্য ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক আরোপিত অর্থদন্ডকে, প্রয়োজনবোধে, ট্রাইব্যুনাল অপরাধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য ক্ষতিপূরণ হিসাবে গণ্য করিতে পারিবে এবং অর্থদন্ড বা ক্ষতিপূরণের অর্থ দন্ডিত ব্যক্তির নিকট হইতে বা তাহার বিদ্যমান সম্পদ হইতে আদায় করা সম্ভব না হইলে, ভবিষ্যতে তিনি যে সম্পদের মালিক বা অধিকারী হইবেন সেই সম্পদ হইতে আদায়যোগ্য হইবে এবং এইরূপ ক্ষেত্রে উক্ত সম্পদের উপর অন্যান্য দাবি অপেক্ষা উক্ত অর্থদন্ড বা ক্ষতিপূরণের দাবি প্রাধান্য পাইবে।
Acquire the knowledge and share the knowledge so that knowing,learning then sharing - all are the collection